📌 খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতাল মাত্র ১৯ শয্যায় সেবা দিচ্ছে। অনুমোদিত ২১২টি পদে মাত্র ১০৬ জন কর্মী থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত চাপে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এই ৫০ শয্যার হাসপাতাল বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যায় রোগীদের সেবা দিচ্ছে। এছাড়া অনুমোদিত ২১২টি পদে মাত্র ১০৬ জন কর্মী কর্মরত থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিন লাখেরও বেশি মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল, কিন্তু ভবন সংকট ও কর্মী ঘাটতির কারণে রোগীদের সেবায় বাধা পড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতাল মাত্র ১৯ শয্যায় সেবা দিচ্ছে
- 📌 অনুমোদিত ২১২টি পদে মাত্র ১০৬ জন কর্মী কর্মরত, অর্ধেক পদ শূন্য
- 📌 প্রথম শ্রেণির ৩৫টি পদে ২০টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০টি পদে ১৩টি, তৃতীয় শ্রেণির ১২৪টি পদে ৫৪টি শূন্য
- 📌 সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, ইএনটি ও কার্ডিওলজি বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদ শূন্য
- 📌 স্বাস্থ্য সহকারীর ৪৪টি পদে ২১টি, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৯টি পদে ৪টি শূন্য
- 📌 রোগীর চাপ বাড়ায় অপেক্ষার সময় বাড়ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিলম্ব হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এই হাসপাতালটি ১৯৬৪ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ভবন সংকটের কারণে মাত্র ১৯ শয্যায় রোগীদের সেবা দিচ্ছে।
অনুমোদিত ২১২টি পদে মাত্র ১০৬ জন কর্মী কর্মরত থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ৩৫টি পদে ২০টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০টি পদে ১৩টি, তৃতীয় শ্রেণির ১২৪টি পদে ৫৪টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদে ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসক পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন, অ্যানেসথেশিয়া, শিশু, ইএনটি, অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি, চক্ষু ও চর্মসহ বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্টের একাধিক পদে কোনো চিকিৎসক নেই।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত টেকনিক্যাল ও সহায়ক জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় কম। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিও, কার্ডিওগ্রাফার, কম্পাউন্ডার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীর একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে ৪৪টি স্বাস্থ্য সহকারীর পদের মধ্যে ২১টি এবং ৯টি সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, ওটি বয়, জরুরি বিভাগের অ্যাটেনডেন্ট, অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, কুক বা মশালচি, নিরাপত্তা প্রহরী, মালি ও সুইপারসহ বিভিন্ন পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, ‘প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অনেক রোগীকেই দূরের শহরে যেতে হয়। তাই উপজেলা পর্যায়ের এই হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি অনুমোদিত ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর দাবি জানান।
"কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে। প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ভবন সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯ শয্যায় সেবা দিতে হচ্ছে। তার ওপর অর্ধেক জনবল না থাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, রোগীর চাপ বাড়লে অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি পায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিলম্ব হয় এবং জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডের সেবায় চাপ তৈরি হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিদেশ রঞ্জন মৃধা (কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি), মো. রেজাউল করিম (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শয্যা (অনুমোদিত), ১৯ শয্যা (বর্তমান), ২১২টি পদ (অনুমোদিত), ১০৬ জন (কর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!