📌 ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে বালিশের ধরনই হতে পারে সমস্যার কারণ। ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্রিস ম্যাকার্থি ঘুমের ভঙ্গি, কাঁধের প্রস্থ ও গদির নরমতা বিবেচনা করে বালিশ বেছে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা অনুভব করলে অনেকেই বিছানা বা গদির দিকে নজর দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বালিশের ধরনও এই ব্যথার প্রধান কারণ হতে পারে। ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ও ফিজিওথেরাপিস্ট ড. ক্রিস ম্যাকার্থি ঘুমের ধরন, কাঁধের প্রস্থ ও গদির নরমতা বিবেচনা করে নিজের জন্য উপযুক্ত বালিশ বেছে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ঘুমের ভঙ্গি অনুযায়ী বালিশের উচ্চতা পরিবর্তন করতে হয়** — উপুড় হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড়ের পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই এই ভঙ্গিতে ঘুমানো নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
- 📌 **কাত হয়ে ঘুমানোর জন্য বালিশের উচ্চতা নির্ধারণে কাঁধের প্রস্থ ও গদির নরমতা গুরুত্বপূর্ণ** — কাঁধ যত চওড়া, বালিশ তত মোটা হওয়া দরকার। শক্ত গদিতে কাঁধ কম ডোবে, তাই মোটা বালিশ প্রয়োজন হয়।
- 📌 **বালিশের উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ** — পালক ও ডাউন ভরা বালিশ ঠান্ডা রাখতে পারে, কিন্তু নড়াচড়ায় আকার পরিবর্তন করে ঘাড় বেঁকে যেতে পারে। ফোমের বালিশে বাতাস চলাচলের জন্য ফাঁকা জায়গা থাকলে বেশি কার্যকর।
- 📌 **বালিশের উচ্চতা সামঞ্জস্য করতে তোয়ালের ভাঁজ ব্যবহার করা যায়** — বালিশের নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে রাখলে ঘাড়ের নিচে বাড়তি সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- 📌 **ড. ম্যাকার্থি নিজে ৫০ পাউন্ডে কিনেছিলেন ফোমের বালিশ** — বাতাস চলাচলের জন্য বিশেষ ফাঁকা জায়গা থাকায় এটি বেশি কার্যকর বলে মনে করেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
বিবিসির ‘Sliced Bread’ পডকাস্টে ড. ক্রিস ম্যাকার্থি বলেছেন, সাধারণত মানুষ তিন ধরনের ভঙ্গিতে ঘুমান — কাত হয়ে, চিৎ হয়ে এবং উপুড় হয়ে। তবে উপুড় হয়ে ঘুমানোকে তিনি নিরুৎসাহিত করেছেন। কারণ এই অবস্থায় দীর্ঘ সময় ঘাড় একদিকে ঘোরানো থাকে, ফলে ঘাড়ের কোনো পেশি বা লিগামেন্টে টান পড়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
চিৎ হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক বিবেচনা করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের ওপরের অংশের বাঁক অনেকেরই কিছুটা বাড়ে। যাদের এই বাঁক বেশি, তাদের তুলনামূলক মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাঁধের প্রস্থ। কাঁধ যত চওড়া, সাধারণত বালিশও তত মোটা হওয়া দরকার। তবে এখানে গদির নরম-শক্তভাবও বড় ভূমিকা রাখে। শক্ত গদিতে কাঁধ কম ডোবে, তাই মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে। নরম গদিতে কাঁধ বেশি ডুবে যাওয়ায় তুলনামূলক পাতলা বালিশই যথেষ্ট।
বালিশ খুব পাতলা মনে হলে ড. ম্যাকার্থির সহজ একটি কৌশল রয়েছে — বালিশের নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে রাখা। কতটা উঁচু বালিশ প্রয়োজন, তা বুঝতে তোয়ালের ভাঁজের সংখ্যা বাড়ানো-কমানো যায়। একইভাবে তোয়ালে গুটিয়ে বালিশের নিচে রাখলে কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচের অংশে বাড়তি সমর্থন প্রয়োজন কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যায়।
ড. ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, ‘কনট্যুরড’, ‘এরগোনমিক’ বা ‘অর্থোপেডিক’ বালিশের কার্যকারিতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে বালিশের সামনের অংশ সামান্য উঁচু হলে কিছু মানুষের উপকার হতে পারে। বালিশের উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। পালক ও ডাউন ভরা বালিশ ঘাড় ও মাথাকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা রাখতে পারে, তবে রাতে নড়াচড়া করলে বালিশগুলোর আকার বদলে গিয়ে একদিকে জমাট বাঁধতে পারে। এতে বালিশটি ঢালু হয়ে ঘাড় বেঁকে যেতে পারে। হোলো ফাইবার ও মাইক্রোফাইবার সাধারণত আকৃতি ভালোভাবে ধরে রাখে, যদিও এগুলো তাপ সরাতে পারে কম।
"সবার জন্য একই ধরনের বালিশ উপযুক্ত নয়। তাই বালিশ কেনার সময় সুযোগ থাকলে ট্রায়াল পিরিয়ড ব্যবহার করে নিজের ঘুমের ভঙ্গি ও আরামের সঙ্গে মানানসই বালিশ বেছে নেওয়াই ভালো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ম্যানচেস্টার (বিবিসি পডকাস্টে দেওয়া পরামর্শ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. ক্রিস ম্যাকার্থি (ফিজিওথেরাপিস্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ পাউন্ড (বালিশের মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!