📌 হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা দিনে গড়ে ৪.৫ ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করে। গবেষণা দেখায়, অভিভাবকরা শিশুদের একঘেয়েমি কাটাতে, ব্যথা কমাতে এবং শান্ত রাখতে মোবাইল দিচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের বিপরীতে ৭৯% শিশু অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ব্যস্ত থাকে
হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ শিশুদের প্রায়ই মোবাইল হাতে দেখা যায়। ছবিগুলো দেখে মনে হয় তারা গেম খেলছে বা ভিডিও দেখছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠে, কেন অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের মোবাইল দেওয়া হয়? গবেষণা থেকে জানা যায়, অভিভাবকরা একঘেয়েমি কাটাতে, ব্যথা কমাতে এবং শিশুদের শান্ত রাখতে মোবাইল দিচ্ছেন। কিন্তু এই অভ্যাসের পেছনে কী কারণ?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬০ শিশু ব্রাজিলের একটি হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন দিনে গড়ে ৪.৫ ঘণ্টা মোবাইল বা স্ক্রিনে সময় কাটিয়েছে — যা বাড়িতে থাকাকালীন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
- 📌 ৭৯.২ শতাংশ শিশু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মেনে চলেনি; তাদের মধ্যে ২০.৮ শতাংশই মাত্র সুপারিশ অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম মেনে চলেছে।
- 📌 ৯৪ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, হাসপাতালে অন্য কোনো বিনোদন না থাকায় শিশুদের মোবাইল দিয়ে একঘেয়েমি কাটানো হয়।
- 📌 ৭৭ শতাংশ অভিভাবক শিশুদের খেলতে ও শান্ত রাখতে মোবাইল ব্যবহার করতে দিয়েছেন, আর ৫৮ শতাংশ ব্যথা কমাতে এবং ৪৯ শতাংশ কান্না থামাতে ফোন দিয়েছেন।
- 📌 থাইল্যান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, অভিভাবকরা মোবাইলকে শিশুদের অস্বস্তি, ব্যথা বা কান্না থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখার সহজ উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন।
📰 বিস্তারিত
হাসপাতালের ছবিগুলো থেকে একটা সাধারণ দৃশ্য দেখা যায়: অসুস্থ শিশুরা মোবাইল হাতে ব্যস্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন অভিভাবকরা অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের মোবাইল দিচ্ছেন? গবেষণা থেকে জানা যায়, এই অভ্যাসের পেছনে অভিভাবকদের উদ্যোগ রয়েছে। ব্রাজিলের একটি হাসপাতালে ভর্তি ২৬০ শিশুর গবেষণা থেকে দেখা গেছে, তারা দিনে গড়ে ২৭০ মিনিট (৪.৫ ঘণ্টা) স্ক্রিনে সময় কাটিয়েছে। এটি তাদের বাড়িতে থাকাকালীন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী শিশুরা দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম মেনে চলতে পারেন। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০.৮ শতাংশ শিশুই এই সুপারিশ মেনে চলেছে। বাকি ৭৯.২ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ব্যস্ত রয়েছে।
থাইল্যান্ডের একটি গবেষণায় ২৫৪ শিশুর অভিভাবকদের সাথে কথা বলা হয়। তাদের প্রশ্ন করা হয়, কেন তারা অসুস্থ শিশুদের মোবাইল দিচ্ছেন। গবেষণায় দেখা যায়, ৯৪ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, হাসপাতালে অন্য কোনো বিনোদন না থাকায় শিশুদের মোবাইল দিয়ে একঘেয়েমি কাটানো হয়। ৭৭ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, শিশুদের খেলতে ও শান্ত রাখতে মোবাইল ব্যবহার করতে দিয়েছেন। আবার ৫৮ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, শিশুর ব্যথা কমাতে মোবাইল দিয়েছেন। আর ৪৯ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, শিশুর কান্না থামাতে মোবাইল দিয়েছেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রে শিশুর মনোযোগ সরিয়ে রাখার পদ্ধতিকে ‘থেরাপিউটিক ডিস্ট্র্যাকশন’ বলা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে সাধারণত ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়, যা হাসপাতাল নিজে সরবরাহ করে এবং কনটেন্টও নিয়ন্ত্রিত থাকে। তবে অসুস্থ শিশুদের হাতে টানা মোবাইল থাকা এই পদ্ধতির আওতাভুক্ত নয়। প্রশ্ন উঠে, শিশুকে সাময়িকভাবে স্বস্তির জন্য দেওয়া মোবাইল কি শুধু সেই মুহূর্তের প্রয়োজন মেটাচ্ছে? নাকি ধীরে ধীরে এটি শিশুদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে উঠছে?
"অসুস্থ শিশুকে মোবাইল দিল কে? প্রশ্ন এসেছে, হাসপাতালের চিকিৎসাকেন্দ্রিক একটা পরিবেশের মধ্যেও মোবাইলটি কীভাবে শিশুটির একটা স্বাভাবিক ব্যবহারের অংশ হয়ে উঠে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাজিল, থাইল্যান্ড (গবেষণা স্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অসুস্থ শিশু, অভিভাবক, চিকিৎসক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬০ (শিশু), ২৭০ (মিনিট), ৪.৫ (ঘণ্টা), ২০.৮ (শতাংশ), ৭৯.২ (শতাংশ), ৯৪ (শতাংশ), ৭৭ (শতাংশ), ৫৮ (শতাংশ), ৪৯ (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!