📌 খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের আক্রমণে ওষুধ সংকটে রোগীদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে। হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ভর্তি থাকলেও হামের ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের প্রকোপে শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। ওষুধের সংকটে রোগীদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছেন। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ভর্তি থাকলেও তাদের মধ্যে ১৭ জন হামে আক্রান্ত। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের চিকিৎসার জন্য অভিভাবকদের টাকা জোগাড় করতে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ভর্তি, এর মধ্যে ১৭ জন হামে আক্রান্ত
- 📌 শিশুদের চিকিৎসার জন্য অভিভাবকদের ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়
- 📌 ওষুধ সংকটে রোগীদের স্বজনরা বাজারে সাহায্য চাইতে বাধ্য হন
- 📌 হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, স্যালাইন, ক্যানোলা ও সিরিঞ্জসহ ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত
- 📌 হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মিল্লাত শাহ
📰 বিস্তারিত
গতকাল শনিবার রাতে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ১৭ জন। অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু এবং তাদের পরিবার দরিদ্র। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অভিভাবকদের আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিশেষ করে শিশুদের আক্রমণে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অভিভাবকদের টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হন। বিবি জৌতিকে তার স্বামী ও পরপর দুই মেয়েকে ১০ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অন্যদিকে, মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা সুমি আক্তার তার সাত বছর বয়সী মেয়ে মীমকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাবা আবুল কালাম কাজের সন্ধানে ফটিকছড়ি উপজেলায় থাকায় পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় রোগীদের স্বজনদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। সুমি আক্তার জানান, গতকাল রাত ৯টার দিকে মানিকছড়ি বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চান। টাকা সংগ্রহ করে মেয়ের রাতের ওষুধের ডোজ কেনেন তিনি। সুমির স্বামী আবুল কালাম বলেন, কাজের সন্ধানে ফটিকছড়িতে থাকাকালে তাঁর মেয়ে মীম অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরে টাকা না থাকায় স্ত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য চাইতে হয়েছে।
হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রাশেদা আক্তার বলেন, গত দেড় মাস ধরে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ওষুধের সংকট চলছে। ফলে ভর্তি রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, স্যালাইন, ক্যানোলা ও সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
"গত দেড় মাস ধরে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ওষুধের সংকটের কারণে রোগীদের স্বজনদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তাঁদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।"
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মিল্লাত শাহ বলেন, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খাগড়াছড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিবি জৌতি, সুমি আক্তার, আবুল কালাম, সিনিয়র নার্স রাশেদা আক্তার, মেডিকেল অফিসার মিল্লাত শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ জন রোগী ভর্তি, ১৭ জন হামে আক্রান্ত, ২৮-৩০ হাজার টাকা খরচ, ১০ দিন ধরে চিকিৎসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!