📌 দেশের ৯৯টি সরকারি ও দাতা-সহায়তায় নির্মিত অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ৮৭% অচল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় সংকট সৃষ্টি হতে পারে
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলিতে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্মিত ৯৯টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ৮৭ শতাংশই সেবার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে সরকারি হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থায় বড় সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে ৯৯টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও ৮৭ শতাংশ (৬১টি) অচল অবস্থায় রয়েছে
- 📌 সরকারি হাসপাতালের ৬৪টি জেলা হাসপাতাল, ২৮টি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে
- 📌 সিএমএসডির ৭০টি প্ল্যান্টের মধ্যে ৩১টি পুরোপুরি নষ্ট, ৩০টি কারিগরি সচল কিন্তু সার্বক্ষণিক চালু নয়
- 📌 গ্লোবাল ফান্ডের অনুদানে ইউএনওপিএসের ২৯টি প্ল্যান্ট সচল, কিন্তু তাদের টেকনিশিয়ানদের বেতন অনুদান শেষ হয়েছে
- 📌 প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ রোগীর চিকিৎসায় অক্সিজেন প্রয়োজন, যার মধ্যে ৫৪ লাখ অস্ত্রোপচারে
📰 বিস্তারিত
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলিতে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে ৯৯টি মেডিকেল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও সিংহভাগই এখন রোগীদের কাজে আসছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থাপন করা ৭০টি প্ল্যান্টের ৮৭ দশমিক ১৪ শতাংশই (৬১টি) সেবার বাইরে রয়েছে।
রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (আইইউবি) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। সামিটে উপস্থাপিত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সিএমএসডির অধীনে থাকা ৭০টি প্ল্যান্টের মধ্যে ৩১টি পুরোপুরি নষ্ট বা ত্রুটিযুক্ত হয়ে অচল রয়েছে। আরো ৩০টি কারিগরি সচল হলেও সার্বক্ষণিক চালু নয়। ফলে মাত্র ৯টি প্ল্যান্টই সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে, যা মোটের ১৩ শতাংশ।
বিপরীতে, গ্লোবাল ফান্ডের অনুদানে ইউএনওপিএস সরকারি হাসপাতালে সরাসরি নকশা, নির্মাণ ও চালুর দায়িত্ব নিয়ে স্থাপন করা ২৯টি প্ল্যান্টের সবকটিই বর্তমানে সচল ও সার্বক্ষণিক অপারেশনাল রয়েছে। তবে এই প্ল্যান্টগুলোর টেকনিশিয়ানদের বেতনের অনুদান চুক্তি গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর।
সামিটে বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ লাখ রোগীর চিকিৎসায় অক্সিজেন প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫৪ লাখ অস্ত্রোপচারে, ১৯ লাখ তীব্র রোগে এবং ২ লাখ দীর্ঘমেয়াদি রোগে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি সরকার দ্রুত এসব প্ল্যান্টের কারিগরি জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব না নেয় এবং নিজস্ব ৬১টি প্ল্যান্ট মেরামত না করে, তাহলে সরকারি হাসপাতালের অক্সিজেন অবকাঠামো বড় সংকটে পড়তে পারে।
"সিএমএসডির অধীনে থাকা সাতটি প্ল্যান্ট এখনো হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। স্থায়ী বাজেট ও কারিগরি টেকনিশিয়ান না থাকায় কোথাও সাধারণ কর্মচারীদের দিয়ে প্ল্যান্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, যা দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আইইউবি), সারা দেশের ৬৪টি জেলা হাসপাতাল, ২৮টি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারুফ হাসান (ইউএনওপিএস সিনিয়র অ্যানালিস্ট), ড. আহমেদ এহসানুর রহমান (আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৯টি প্ল্যান্ট, ৮৭ শতাংশ অচল, ৬১টি নষ্ট/অচল, ৭০টি সিএমএসডি প্ল্যান্ট, ২৯টি ইউএনওপিএস প্ল্যান্ট, ৭৫ লাখ রোগী প্রতি বছর অক্সিজেন প্রয়োজন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!