📌 মাদকাসক্তির রিকভারি শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ নয়, বরং শারীরিক-মানসিক সুস্থতা ও জীবনযাত্রার উন্নয়নের একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঢাকার শ্যামলীতে অনুষ্ঠিত ‘রিকভারি ডে ২০২৬’-এ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করে, কিন্তু মাত্র ১৩% পেয়েছেন চিকিৎসা
মাদকাসক্তির রিকভারি শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করা নয়, বরং একজন ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীল জীবনযাপনের একটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। এই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন ঢাকার শ্যামলীতে অনুষ্ঠিত ‘রিকভারি ডে ২০২৬’-এ উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালস (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদকাসক্তির রিকভারি মানে শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি দিক পুনরুদ্ধারের একটি চলমান প্রক্রিয়া
- 📌 বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪.৮৮% (৮২ লাখ) মানুষ মাদক ব্যবহার করে, যার মধ্যে ৩৩% ৮-১৭ বছর বয়সী এবং ৫৯% ১৮-২৫ বছর বয়সী প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন
- 📌 মাত্র ১৩% মাদকাসক্ত ব্যক্তি পেয়েছেন চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা, বাকি ৬৯% চিকিৎসা চান
- 📌 রিকভারির জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা, পরিবারগত সমর্থন, কর্মসংস্থান সুযোগ, কাউন্সেলিং ও পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ
- 📌 মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ‘অসুস্থ’ হিসেবে দেখতে হবে, না ‘নেশাখোর’ বা কলঙ্কিত ব্যক্তি হিসেবে
📰 বিস্তারিত
সেপ্টেম্বর মাস বিশ্বব্যাপী ‘রিকভারি মাস’ হিসেবে পালিত হয়। এই বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘রিকভারি ইজ রিয়েল: রিস্টোরিং এভরি অ্যাসপেক্ট অভ লাইফ’—অর্থাৎ সেরে ওঠা বাস্তব: জীবনের প্রতিটি দিক পুনরুদ্ধার। অনুষ্ঠানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম. এ. মোহিত কামাল বলেন, টেকসই রিকভারির জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারগত সমর্থন, পুনর্বাসন, পিয়ার সাপোর্ট, পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শেষে পুরোনো পরিবেশে ফিরে গেলে পুনরায় মাদক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪.৮৮% (৮২ লাখ) মানুষ মাদক ব্যবহার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৩% ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সী এবং ৫৯% ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন। প্রায় ৯০% ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক সহজলভ্য। অথচ মাত্র ১৩% পেয়েছেন চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা।
বক্তারা বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ‘নেশাখোর’ বা অন্য কোনো অপমানজনক পরিচয়ে না ডেকে ‘মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে অসুস্থ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে তারা বলেন, মাদক সমস্যাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।
"টেকসই রিকভারির জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি ফ্যামিলি সাপোর্ট, আফটারকেয়ার, পিয়ার সাপোর্ট, রিল্যাপ্স প্রিভেনশন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।" — প্রফেসর ডা. এম. এ. মোহিত কামাল, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, শ্যামলী (ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রফেসর ডা. এম. এ. মোহিত কামাল, ইকবাল মাসুদ, রাখি গাঙ্গুলী, জামিউল আহ্সান শিপু, মো. শামীম খান, লুৎফর রহমান মানিক, মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী সুমন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮২ লাখ (মাদক ব্যবহারকারী), ৪.৮৮% (মোট জনসংখ্যার), ৩৩% (৮-১৭ বছর বয়সী), ৫৯% (১৮-২৫ বছর বয়সী), ১৩% (চিকিৎসা পেয়েছেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!