📌 চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি দফতরসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা আলোচনা করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রতি বছর লক্ষাধিক মৃত্যু ঘটে
চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি দফতরসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এই সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিভাগের ১১টি জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দফতরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি দফতরসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা আলোচনা করা হয়।
- 📌 গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহার করেন এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।
- 📌 কর্মক্ষেত্রে ৪২.৭ শতাংশ, রেস্টুরেন্টে ৪৯.৭ শতাংশ এবং গণপরিবহনে ৪৪ শতাংশ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।
- 📌 ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ সকল জনসমাগমস্থলে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
- 📌 সভায় সরকারি দফতরসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অফিস আদেশ জারি, ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ স্থাপন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ফোকাল ব্যক্তি নির্ধারণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহিতকরণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা জনগণের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকারি দফতরগুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হলে তা তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না। তিনি বলেন, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি তামাক ব্যবহার। তাই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার, ও সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার আবু জাফর, হার্ট ফাউন্ডেশনের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম ও সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. উদিত প্রয়াস সিকদার, রিসার্চ অফিসার সাইয়েদা মোছাল্লামা শারমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
"নির্ধারিত ধূমপান এলাকা অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না। তাই সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ সকল জনসমাগমস্থলে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. জিয়াউদ্দীন (বিভাগীয় কমিশনার), অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ কোটি ৭৮ লাখ তামাক ব্যবহারকারী, ৩ কোটি ৮৪ লাখ পরোক্ষ ধূমপান শিকার, ১৬ লাখ ৬০ হাজার মৃত্যু (২০২৩)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!