📌 ব্রকলি শরীরের জন্য অপরিহার্য পুষ্টিগুণে ভরপুর। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা দেখায়, নিয়মিত ব্রকলি খাওয়ার সঙ্গে ফুসফুস, অন্ত্র ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে ৩৬ শতাংশ। এতে ভিটামিন কে, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি থাকায় হৃদয় ও হাড়ের স্বাস্থ্যও মজবুত হয়
শীতের আগমন নিয়ে বাজারে ফিরে আসছে ব্রকলি। দেখতে সুন্দর এই সবজিটি শুধু স্বাদেই নয়, শরীরের জন্য অসামান্য উপকারিতা বহন করে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির পুষ্টিবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমিলি হুরের মতে, ব্রকলি এমন একটি সবজি যা শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা করে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে থেকে শুরু করে হৃদয় ও হাড়ের যত্নে পর্যন্ত এর ভূমিকা অপরিসীম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রকলি খাওয়ার সঙ্গে ফুসফুস, অন্ত্র ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে ৩৬ শতাংশ।
- 📌 সালফোরাফেন নামের উপাদান ব্রকলির গন্ধের কারণ, যা শরীরকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমায়।
- 📌 ১ কাপ ব্রকলিতে থাকে ৯৩ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে (প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক প্রয়োজন ৯০ মাইক্রোগ্রাম, পুরুষের ১২০ মাইক্রোগ্রাম)।
- 📌 ২৮৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকায় ব্রকলি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- 📌 ভিটামিন সি থাকায় ব্রকলি হাড়ের গঠন মজবুত রাখে এবং কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে।
- 📌 বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেননি যে ব্রকলি সরাসরি ক্যানসার প্রতিরোধ করে, তবে নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
- 📌 ব্রকলি রান্না করার সময় অতিরিক্ত সেদ্ধ না করা উচিত, কারণ তাতে মাইরোসিনেজ এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, যা সালফোরাফেনকে সক্রিয় রাখে।
📰 বিস্তারিত
ব্রকলির ফুলের মতো অংশ এবং ডাঁটায় পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে ভিটামিন, খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদানসমূহের সমৃদ্ধ সংমিশ্রণ রয়েছে। বিশেষত সালফোরাফেন নামের উপাদান ব্রকলির অন্যতম মূল্যবান বৈশিষ্ট্য। এই উপাদান ব্রকলি কাটার বা রান্নার সময় নির্গত ঝাঁজালো গন্ধের কারণ। বিজ্ঞানীরা বলেন, সালফোরাফেন শরীরকে বায়ুদূষণ, সিগারেটের ধোঁয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। প্রদাহের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক থাকায়, ব্রকলির সালফোরাফেন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
২৩টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রকলি খাওয়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত ফুসফুস, অন্ত্র ও স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক স্পষ্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত একবার ব্রকলি খান, তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যারা ব্রকলি খান না তাদের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, ব্রকলি খেলেই ক্যানসার হবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্রকলি খাওয়ার সঙ্গে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার এবং সুস্থ জীবনযাপনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
ব্রকলি হৃদয় স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন কে রক্তের ঠিকমতো চলাচল এবং প্রয়োজনে রক্ত জমাট বাঁধার কাজে সহায়তা করে। এক কাপ কুচি করা ব্রকলিতে প্রায় ৯৩ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে থাকে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক প্রয়োজনীয়তার ৯০ মাইক্রোগ্রাম এবং পুরুষের ১২০ মাইক্রোগ্রামের কাছাকাছি। এছাড়া ব্রকলিতে ২৮৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ব্রকলির খাদ্যআঁশ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, ফলে করোনারি হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে যায়।
হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ব্রকলি অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন কে হাড় গঠন ও মজবুত রাখার কাজে সহায়তা করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিটামিন সি, যা কোলাজেন নামের প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে। কোলাজেন হাড়ের গঠন ঠিক রাখতে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান জমা হওয়ার কাজে ভূমিকা রাখে। মজার ব্যাপার হলো, এক কাপ ব্রকলিতে এক কাপ জাম্বুরার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি থাকে। ফলে ব্রকলি হাড়কে শক্ত এবং সহজে ভঙ্গুর হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
"ব্রকলি এমন একটি সবজি, যা শরীরের নানা কাজে লাগে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে ব্রকলি।" — অধ্যাপক এমিলি হুর, ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক এমিলি হুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩টি গবেষণা, ৩৬ শতাংশ ঝুঁকি কমে, ৯৩ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে, ২৮৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!