📌 দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে, কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংখ্যা ৩১ শয্যার হাসপাতালের মতোই। গাইনি, সার্জারি ও অর্থোপেডিক্স চিকিৎসকের অভাবে রোগীরা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে জনবল সংকটের কারণে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন, কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংখ্যা ৩১ শয্যার হাসপাতালের মতোই। ফলে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং স্থানীয় ক্লিনিকগুলিতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, কিন্তু অন্তর্বিভাগে নিয়মিত ৭০-৮০ রোগী ভর্তি থাকায় শয্যাসংকট দেখা দিচ্ছে
- 📌 ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৩ জন কর্মরত, এর মধ্যে তিনজন প্রেষণে রয়েছেন; গাইনি, সার্জারি, কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসকের অভাব
- 📌 অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলেও অস্ত্রোপচার ও সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব নয়; রোগীদেরকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে
- 📌 ২০১৩ সালে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও জনবল ও কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত; ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ সৃষ্টি হয়নি
- 📌 রোগীরা স্থানীয় ক্লিনিকগুলিতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করছেন বলে অভিযোগ; সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসায় অর্থোপেডিক্স চিকিৎসকের অভাব
📰 বিস্তারিত
১৯৭৮ সালে সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে স্থাপিত বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০১৩ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল ও কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ সৃষ্টি হয়নি, ফলে ৩১ শয্যার হাসপাতালের মতোই কর্মচারীদের সংখ্যা।
হাসপাতালে ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৩ জন কর্মরত, এর মধ্যে তিনজন প্রেষণে রয়েছেন। গাইনি, সার্জারি, কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসকের অভাবের কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলেও অস্ত্রোপচার ও সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব নয়। ফলে অধিকাংশ রোগীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
মহাসড়কের পাশে অবস্থান করায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চাপ বেশি। তবে অর্থোপেডিক্স চিকিৎসকের অভাবের কারণে এই রোগীদের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ কম। ২০২৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক মো. মনিরুল ইসলাম ও কার্ডিওলজি চিকিৎসক মো. মামুনুর রশিদ বীরগঞ্জ হাসপাতাল থেকে বেতন নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, স্থানীয় ক্লিনিকগুলো রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে। পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ বলেছেন, ‘আমার বাবাকে হার্টের ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা হচ্ছে না। তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে।’ ভোগনগর ইউনিয়নের শাহিনুর রহমান বলেছেন, ‘আমার স্ত্রীকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ভর্তি করা হয়েছে, কিন্তু বাচ্চা হয়নি। সিজারের জন্য বীরগঞ্জ উপজেলা শহরের ক্লিনিকে যেতে হতে পারে।’
"আগে বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ রোগী দেখা হতো। বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী দেখতে হচ্ছে। অন্তর্বিভাগে আগে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকতেন, এখন নিয়মিত ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। এতে শয্যাসংকট হচ্ছে। রোগীদেরকে বারান্দার মেঝেতে পর্যন্ত বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।" — আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আফরোজ সুলতানা লুনা, রোগী আব্দুর রশিদ, শাহিনুর রহমান, চিকিৎসক হারুন অর রশিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শয্যা, ৪০০-৫০০ রোগী (বহির্বিভাগ), ৭০-৮০ রোগী (অন্তর্বিভাগ), ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ, ১৩ জন কর্মরত চিকিৎসক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!