📌 ৬টা ৩০ মিনিটের নিয়মে সন্ধ্যার পর দুশ্চিন্তা না করার মাধ্যমে অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মে নির্দিষ্ট সময়ে চিন্তা সংরক্ষণ করে দিনের বাকি সময় শান্ত থাকা সম্ভব হয়
অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ‘৬:৩০ নিয়ম’ একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এই নিয়মে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর কোনো বিষয়ে বারবার চিন্তা না করার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা যায়। কানাডার মনোরোগ চিকিৎসক ভিক্টোরিয়া ডোনাহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এলি ক্রেইমের মতে, এই পদ্ধতি কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির (সিবিটি) নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘৬:৩০ নিয়ম’ হলো সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর কোনো বিষয়ে চিন্তা না করার একটি কৌশল, যা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়
- 📌 কানাডার মনোরোগ চিকিৎসক ভিক্টোরিয়া ডোনাহু বলেছেন, এই নিয়মে নির্দিষ্ট সময়ে চিন্তা সংরক্ষণ করে দিনের বাকি সময় শান্ত থাকা সম্ভব
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এলি ক্রেইমের মতে, ঘুমের আগের এক ঘণ্টা চিন্তা না করার মাধ্যমে ঘুমের গুণগত মান বাড়ানো যায়
- 📌 ‘৬:৩০ নিয়ম’ সন্ধ্যার সময়কে সম্পর্ক ও যোগাযোগের জন্য বরাদ্দ করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
- 📌 নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর কোনো সমস্যা সমাধান না হলে, চিন্তা থেকে বিরত থাকা এবং পরদিন সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়
📰 বিস্তারিত
জীবনে নানা দায়িত্ব, সন্তানের ভবিষ্যৎ, চাকরি বা সম্পর্কের সমস্যা—এসব বিষয়ে বারবার চিন্তা করে মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা কখনো সহজ হয় না। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ‘৬:৩০ নিয়ম’ একটি কার্যকর পদ্ধতি। এই নিয়মে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর কোনো বিষয়ে চিন্তা না করার সীমা নির্ধারণ করা হয়। কানাডার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ভিক্টোরিয়া ডোনাহু বলেছেন, ‘৬:৩০ নিয়ম’ মূলত ‘ওয়ারি শিডিউলিং’ পদ্ধতির মতো কাজ করে। এটি কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির (সিবিটি) নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে নেতিবাচক চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অধ্যাপক এলি ক্রেইমের মতে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর করার পরিবর্তে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ও জায়গা এর জন্য বরাদ্দ করা। এতে ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক শিখতে পারে যে প্রতিটি উদ্বেগের চিন্তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। উদাহরণস্বরূপ, অফিস থেকে ফেরার পর মনে পড়লে যে পরদিন একজন সহকর্মীকে ফোন করতে হবে, সে বিষয়ে রাতভর চিন্তা না করে সকাল ৮টায় ফোন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এতে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে না।
ঘুমের আগের এক ঘণ্টা চিন্তা না করার মাধ্যমে ঘুমের গুণগত মান বাড়ানো যায়। যদি রাত ১০টায় ঘুমাতে যাওয়া হয়, তাহলে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে চিন্তা না করার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। তবে যারা রাতের শিফটে কাজ করেন বা সন্ধ্যার পর ব্যস্ত থাকেন, তাদের নিজেদের ঘুমের সময় অনুযায়ী এই সীমা ঠিক করে নিতে হবে।
"৬:৩০ নিয়ম আমাদের সন্ধ্যার সময়টা ফিরিয়ে দেয়। ফলে আমরা সম্পর্কের প্রতি আরও মনোযোগী হতে পারি। একই সঙ্গে যোগাযোগ ও আনন্দের জন্যও সময় বের করার সুযোগ তৈরি হয়।"
— ভিক্টোরিয়া ডোনাহু, কানাডার মনোরোগ চিকিৎসক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ডোনাহু (মনোরোগ চিকিৎসক), এলি ক্রেইম (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬:৩০, ৮:০০, ১০:০০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!