📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ১০৩ বছর বয়সী জেমস স্নিড ‘গুড, বেটার, বেস্ট’ মন্ত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ জীবনের রহস্য প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রতিদিন ফিটনেস ক্লাসে অংশ নেন এবং সামাজিক কাজে সক্রিয় থাকেন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক জেমস স্নিড ১০৩ বছর বয়সে ‘গুড, বেটার, বেস্ট’ মন্ত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ জীবনের গোপনীয়তা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কলম্বাসে বসবাসকারী এই প্রবীণ ব্যক্তি প্রতিদিন সিলভার স্নিকার্স ফিটনেস ক্লাসে অংশ নেন এবং জীবনের প্রতিটি দিনকে নতুন চ্যালেঞ্জের সাথে পূরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০৩ বছর বয়সে** দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক জেমস স্নিড ‘গুড, বেটার, বেস্ট’ মন্ত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ জীবনের রহস্য প্রকাশ করেছেন।
- 📌 **প্রতিদিন সিলভার স্নিকার্স ফিটনেস ক্লাসে** অংশ নেন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য ডিজাইন করা এই প্রোগ্রামে কার্ডিও, ওজন তোলা ও সার্কিট ট্রেনিং করেন।
- 📌 **ছোটবেলা থেকে শেখা মন্ত্র** ‘গুড, বেটার, বেস্ট, নেভার লেট ইট রেস্ট’ তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
- 📌 **১৯৩২ সাল থেকে** এই মন্ত্রের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সর্বদা উন্নত করার চেষ্টা করেন।
- 📌 **দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়ার** পর তিনি পরিবার গড়ে তোলেন এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- 📌 **১০০ বছর বয়সে** তাঁর মেয়ে জ্যানেট তাঁকে জর্জিয়ার কলম্বাসে নিয়ে আসেন এবং সেখানে তিনি এখনও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন।
📰 বিস্তারিত
১০৩ বছর বয়সী জেমস স্নিডের জীবন একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্যের জন্য মানসিকতা ও শারীরিক সক্রিয়তার গুরুত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কলম্বাসে অবস্থিত ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমসিএ) তে তিনি প্রতিদিন সার্কিট ট্রেনিং শেষ করে বের হন। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য ডিজাইন করা সিলভার স্নিকার্স প্রোগ্রামে তিনি কার্ডিও, ওজন তোলা, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ও সার্কিট ট্রেনিং করেন।
জেমস বলেন, ‘আমি ওদের মতো সবকিছু করতে পারি না। তবে যতটুকু পারি করি। আর প্রতিদিন একটু একটু করে ভালো করার চেষ্টা করি।’ এই মানসিকতা তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি। ছোটবেলায় তিনি একটি ছড়া শিখেছিলেন, যা আজও তাঁর জীবনের দিকনির্দেশনা। ছড়াটি হলো ‘গুড, বেটার, বেস্ট, নেভার লেট ইট রেস্ট। টিল দ্য গুড বিকাম বেটার অ্যান্ড বেটার বিকাম বেস্ট’।
জেমসের জীবনের গল্প শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পার্ল হারবার হামলার খবর শুনে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। ১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর তিনি ট্যাংক চালানোর প্রশিক্ষণ পান। যুদ্ধের সময় তিনি উত্তর আফ্রিকা ও ইতালিতে দায়িত্ব পালন করেন এবং যুদ্ধের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হন। যুদ্ধের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘কে ভয় পেত না? চারদিকে বিমান থেকে বোমা পড়ছে, সব সময় সাইরেন বাজছে। ঘুমানোরও সুযোগ নেই। তখন ওপরের সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারও দিকে তাকানোর ছিল না।’
যুদ্ধ শেষে তিনি আলাবামায় ফিরে আসেন এবং নিজের হাতে পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরি করেন। তাঁর পাঁচ সন্তানই কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং আলাবামার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্টেট ট্রুপার নিয়োগের উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বড় বাগান করতেন এবং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সবজি ফলাতেন যাতে আশপাশের কেউ খাবারের অভাবে থাকলে তাঁকে দিতে পারেন। তাঁর এই দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে। তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আলাবামা সিনিয়র সিটিজেনস হল অব ফেমে।
"আমি অনেক হতাশার মধ্য দিয়ে গেছি। কিন্তু সক্রিয় থাকি, শান্ত থাকি। আর ওপরওয়ালা যা করতে বলেন, তা-ই করি। তাই কোনো কিছুই আমাকে খুব বেশি বিচলিত করে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলম্বাস, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেমস স্নিড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৩ বছর বয়স, ৬৫ বছর বয়স, ৩৬ হাজার মানুষ, ২০ বছর গবেষণা, ৯ বছর বয়স, ১৮ বছর বয়স, ১৫০-এর মধ্যে ১৩৫ নম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!