📌 বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একক অনলাইন পোর্টাল চালু ও বিদেশি কর্মীদের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও লাইসেন্স ব্যবস্থায় জটিলতা দূরীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার একক অনলাইন পোর্টাল চালু ও প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণের নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এই পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণের উদ্যোগের বিস্তারিত আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **একক অনলাইন পোর্টালে ট্রেড লাইসেন্স**: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনভেদে পৃথক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে একক পোর্টালে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই আবেদন ও লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।
- 📌 **লাইসেন্সের নাম পরিবর্তন**: ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ নামে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। লাইসেন্স মেয়াদও দীর্ঘায়িত হবে।
- 📌 **বিদেশি কর্মীদের অনুমোদন সহজীকরণ**: বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
- 📌 **যৌথ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন**: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ একাধিক সংস্থার পরিদর্শন একই দিনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **পাঁচটি খাতে অনুমোদন সহজীকরণ**: ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দূরীকরণের জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনভেদে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়, যা সময় ও ব্যয়ের বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন পোর্টাল চালু হলে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে, আবেদন করতে এবং ফি পরিশোধ করতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদও বাড়ানো হবে এবং নাম পরিবর্তন করে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ করা হবে। এতে লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়ায় বর্তমানে অযৌক্তিক জটিলতা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বৈধভাবে কাজ করতে আসা বিদেশি কর্মীদের জন্য এই প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ একাধিক সংস্থার পরিদর্শন একই দিনে সম্পন্ন হবে। এতে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা কমবে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয়ের বোঝা হ্রাস পাবে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও দ্বৈততা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে এই প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
"ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমাতে হবে। ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সচিবালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!