📌 রংপুরের তিনটি মহিলা মার্কেটে নারী উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ দোকান পুরুষের দখলে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে অন্যরা ব্যবহার করছে। ৩০টি দোকানের মধ্যে ২ লাখ ২১ হাজার টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে
রংপুরের তিনটি মহিলা মার্কেটে সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে। নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য নির্মিত এই মার্কেটগুলোর অধিকাংশ দোকান পুরুষের দখলে রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত নারীদের বরাদ্দের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের পারুল, কান্দি ও ছাওলা ইউনিয়নের তিনটি মহিলা মার্কেটে মোট ৩০টি দোকানের মধ্যে ২ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে
- 📌 দেউতি মহিলা মার্কেটের ১২টি দোকানের মধ্যে চার-পাঁচটি পুরুষের দখলে; বেশির ভাগ দোকান গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে
- 📌 পাওটানা হাট মহিলা মার্কেটে অধিকাংশ দোকান বরাদ্দপ্রাপ্তদের নিজস্ব ব্যবসায়ে নয়, অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে
- 📌 স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শাপলা আক্তার বলেছেন, ‘মহিলা মার্কেটে দোকান পেলে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারতাম’
- 📌 উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি জানান, বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নির্মিত তিনটি মহিলা মার্কেটের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের জন্য ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ দোকান পুরুষের দখলে রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত নারীদের বরাদ্দের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পারুল ইউনিয়নের দেউতি বাজার, কান্দি ইউনিয়নের কান্দির হাট এবং ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা হাটে নির্মিত তিনটি মহিলা মার্কেটে মোট ৩০টি দোকান রয়েছে। কিন্তু এসব দোকানের অধিকাংশই নারী উদ্যোক্তাদের বরাদ্দে নয়। দেউতি মহিলা মার্কেটে ১২টি দোকানের মধ্যে চার-পাঁচটি পুরুষের দখলে রয়েছে। বেশির ভাগ দোকান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি ‘সূজয় কসমেটিক স্টোর’ নামের একটি দোকান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
পাওটানা হাট মহিলা মার্কেটেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানকার অধিকাংশ দোকানেই মূল বরাদ্দপ্রাপ্তরা ব্যবসা করছেন না। অনেক দোকান অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শাপলা আক্তার বলেন, ‘ভাঙা ঘরে দোকান করি। রাতে চোর-ডাকাতের ভয় থাকে। তাই দোকানেই থাকতে হয়। মহিলা মার্কেটে দোকান পেলে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারতাম। এটি তো আমাদের নারীদের জন্য করা হয়েছে।’
সরকারি বরাদ্দের অর্থ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে অন্যরা ব্যবহার করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘নারীদের অগ্রগতি ও স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।’
"দ্রুত বকেয়া ভাড়া আদায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানের বরাদ্দ বাতিল এবং প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে এসব দোকান পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হোক"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলা (পারুল, কান্দি, ছাওলা ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাপলা আক্তার (নারী উদ্যোক্তা), সিরাজুল ইসলাম (বাসিন্দা), আসাদুজ্জামান জেমি (উপজেলা প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০টি দোকান, ২ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টাকা বকেয়া ভাড়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!