📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন সরকার জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর উদ্বোধনে তিনি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার’
- 📌 ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ — এ বিষয়বস্তু নিয়ে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সম্মেলন
- 📌 সম্মেলনে শতাধিক দেশের ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি ও এক হাজার অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন
- 📌 প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সরকারি সেবা নিশ্চিত করা হবে
- 📌 সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যার ৮০% নারী হবে
- 📌 শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার মাধ্যম হতে হবে’
- 📌 তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিচ্ছে
- 📌 কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও সেচের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ সহজতর করা হবে
📰 বিস্তারিত
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উৎপাদন, সেবা ও রফতানিসহ সব খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই’। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রথমে সুবিধা দেওয়া হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবে। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন’। তিনি আরো বলেন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার মাধ্যম হতে হবে’। তিনি বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি’। তিনি আরো উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া হবে এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রথম শ্রেণী থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সাথে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে’। তিনি দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা, উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি’।
কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরো সহজলভ্য করা হচ্ছে’। তিনি বলেন, ‘মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে’।
“জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ (স্বাস্থ্যসেবাকর্মী), ৮০% (নারী কর্মী), ৩-৫ অক্টোবর (সম্মেলন তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!