📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেছেন, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিতকরণ সরকারপ্রধান হিসেবে তার সর্বোচ্চ দায়িত্ব। তিনি কানাডার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়ে স্পষ্ট দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার, তা নিশ্চিত করা আমার সরকারপ্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ দায়িত্ব। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ সরকারপ্রধান হিসেবে তার সর্বোচ্চ দায়িত্ব
- 📌 শারদীয় দুর্গাপূজার আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের নেতা
- 📌 বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতারা
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ নিয়েছেন
- 📌 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত
- 📌 কানাডার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আলোচনা হয়
📰 বিস্তারিত
শারদীয় দুর্গাপূজার উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলেন, ‘আল্লাহ–তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
সাক্ষাৎকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন বলে জানান। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাসসহ আরও পাঁচজন নেতা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী কানাডার প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত আছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’ কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
"আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ–তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ (ঢাকা-১৭ আসন), ১৩ (লাখ রোহিঙ্গা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!