📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বলেছেন, জাতীয় পতাকার মান রক্ষা সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো উল্লেখ করে আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
সাভারে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় পতাকার মান রক্ষা সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় পতাকা অর্জন করা শুধু একটি সম্মান নয়, বরং সৈনিকদের ওপর আরো নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নতুন শপথ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন
- 📌 তিনি বলেন, জাতীয় পতাকার মান রক্ষা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব এবং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রতীক
- 📌 মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের 'উই রিভোল্ট' উচ্চারণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থায় নিহিত; ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার যুদ্ধের মতো প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আধুনিকীকরণ চলছে
- 📌 সেনাসদস্যদের কল্যাণে বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি, ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে
📰 বিস্তারিত
রোববার সাভারে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় পতাকার মান রক্ষা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ’। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় পতাকা শুধু একটি পতাকা নয়, বরং একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেন। তিনি ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবজনক অধ্যায়।
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত। তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড’। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।
সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
"জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাভার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মেজর জিয়াউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ ও ৩২ (ফিল্ড রেজিমেন্ট), ২৫ (এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট), ৯ (ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন), ৫৬ ও ৫৭ (ইস্ট বেঙ্গল), ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ, ২টা ১৫ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!