📌 লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ঘুষের বিনিময়ে প্রকল্পের সই করার দাবি করেছেন। ৫ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে তিনি বলেছেন, ‘২ কোটি টাকা দিলে সব সই করব’। পিডিবি কর্তৃপক্ষ তদন্তের কথা জানিয়েছে
লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের একটি সংবেদনশীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি ঘুষের বিনিময়ে প্রকল্পের সই করার দাবি করেছেন। গত রোববার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে নুরুল আমিন একটি ব্যক্তিকে বলেছেন, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রকল্পের সই করার দাবি করেছেন
- 📌 ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘৬ কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার নিচে নড়ব না’
- 📌 একজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, প্রকৌশলী ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখেন এবং কাজের অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান
- 📌 পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেছেন
- 📌 নুরুল আমিনের মুঠোফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি
📰 বিস্তারিত
৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে নুরুল আমিন একটি ব্যক্তিকে বলেছেন, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে, কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ৬ কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার নিচে নড়ব না’। তিনি আরও বলেছেন, ‘একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে’।
ভিডিওতে দেখা যায়, নুরুল আমিন একটি কাজের ব্যয় এবং মালামাল আত্মসাতের বিষয়ে কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। ওই হিসাব করে দেখা যাবে, ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে’।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন ঠিকাদার জানান, নুরুল আমিন বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদন ও অর্থছাড় করাতে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা হয় এবং কাজের অনুমোদন না দেওয়া হয়। একজন ঠিকাদার বলেছেন, ‘বিল পাওয়ার জন্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয়। পরে ঘুষের বিষয়ে কথা ওঠে। তাঁর সঙ্গে বিরোধে গেলে কাজ পাওয়া ও বিল ছাড় করানো—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হয়’।
নুরুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও জবাব দেননি। পরে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর কার্যালয়ে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ে থাকা সহকারী প্রকৌশলী জানান, তিনি সকাল থেকেই কার্যালয়ে আসেননি।
"৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লক্ষ্মীপুর, পিডিবি কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির, ঠিকাদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি টাকা, ৫ কোটি টাকা, ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ড, ৩ লাখ টাকা, ৩০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!