📌 সাংসদীয় স্থায়ী কমিটি মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং প্রকল্পে ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার অপচয় ও নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে তদন্ত করে। চট্টগ্রাম বন্দরে আর্থিক সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকের ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার আমানত থাকা সত্ত্বেও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে দায় চিহ্নিতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে
সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় দায় চিহ্নিতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানা গেছে, ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার বিলে ড্রেজিং কাজ শেষ হলেও চ্যানেলের গভীরতা অর্জিত হয়নি। এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরে আর্থিক সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকের ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার আমানত থাকা সত্ত্বেও অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় মোংলা ও পায়রা বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের দায় চিহ্নিতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
- 📌 পায়রা বন্দরে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের ড্রেজিংে ৬ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হলেও গভীরতা অর্জিত হয়নি — কাজ শেষে চ্যানেলের গভীরতা ছিল মাত্র ৫ মিটার।
- 📌 মোংলা বন্দরে ১২৪ কোটি টাকার ড্রেজিংে নির্ধারিত ৭.৫ মিটার গভীরতা পাওয়ার কথা থাকলেও হাইড্রোগ্রাফি প্রতিবেদনে মাত্র ৫.৫ মিটার পাওয়া গেছে।
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতে ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা আর্থিক সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকে জমা রয়েছে।
- 📌 সাংসদীয় কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে ১২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছে হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর খোন্দকার, খোন্দকার আবু আশফাক, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং প্রকল্পের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যরা জানান, পায়রা বন্দরে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০০ থেকে ১০৫ মিটার প্রশস্ত চ্যানেলের গভীরতা ১০.৫ মিটারে উন্নীত করার জন্য ৬ হাজার ২৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও কাজ শেষে গভীরতা মাত্র ৫ মিটার পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মোংলা বন্দরে পশুর চ্যানেলে ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেজিংয়ের পর নির্ধারিত ৭.৫ মিটার গভীরতা পাওয়ার কথা থাকলেও হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের প্রতিবেদনে মাত্র ৫.৫ মিটার পাওয়া গেছে। প্রকল্পের আগে পলি জমার মাত্রা ও নদীর গতিপ্রকৃতি যথাযথভাবে নিরূপণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম মনির বলেছেন, প্রকল্পের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা তৈরি করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে যুক্ত কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও আলোচিত হয়। জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট স্থায়ী আমানত ছিল ১১ হাজার ১৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে আর্থিক সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকে ১ হাজার ২৬২ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৪ টাকা আমানত রয়েছে, যা মোট আমানতের প্রায় ১১.৩৪ শতাংশ। পদ্মা ব্যাংকে ১৭৯ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পাঁচটি ব্যাংকে (গ্লোবাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, এক্সিম ও ইউনিয়ন ব্যাংক) সম্মিলিত আমানত ছিল ১ হাজার ৮২ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪ টাকা।
"ড্রেজিং কাজ পরিচালনা ও বিল পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপচয় ঠেকাতে কাজের পরিমাণের পাশাপাশি ফলাফলভিত্তিক চুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চ্যানেলের গভীরতা বজায় রাখার দায়িত্ব ঠিকাদারকে দেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোংলা বন্দর, পায়রা বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূরুল ইসলাম মনির, মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর খোন্দকার, খোন্দকার আবু আশফাক, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, মোহাম্মদ কামাল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা (অপচয়), ৭৫ কিলোমিটার (পায়রা বন্দরের চ্যানেল), ১০.৫ মিটার (কাঙ্ক্ষিত গভীরতা), ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা (চট্টগ্রাম বন্দরে আমানত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!