📌 সাংসদীয় কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। গণশুনানি ছাড়া দাম বাড়ানো, ডিজেলের মজুত, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপূর্ণতা নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠে। আইন অনুযায়ী ২৩ বছরেও জ্বালানির দাম নির্ধারণে গণশুনানি-সংক্রান্ত প্রবিধান তৈরি না হওয়ায় মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে না পারায় সংসদ সদস্যরা সতর্কতা জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে দেওয়া হয়েছে, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং এলপিজি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো শুনানি করা হয়নি, যা সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন।
- 📌 ডিজেলের মজুত মাত্র ৩১ দিনের — সংসদ সদস্যরা জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমান উৎপাদন ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বিপরীতে সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট।
- 📌 ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ সরকারি প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার ওপরে ধরা হয়েছে, যা প্রকল্পের প্রকৃত খরচ ১৫০ কোটি টাকার কথা বলা হয়।
- 📌 বিটিভি ও বাসসের মাধ্যমে সরকারের গ্যাস কূপ খননের তথ্য প্রচার করা হয়েছে, কিন্তু কূপের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
📰 বিস্তারিত
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংসদ সদস্যরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম নির্ধারণের প্রবিধান তৈরি করতে হবে। তিনি জানান, গত ২৩ বছরে এই প্রবিধান তৈরি না হওয়ায় মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে বলা হয়।
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ডিজেলের মজুত মাত্র ৩১ দিনের, যা কৌশলগত জ্বালানি হিসেবে বিপদজনক। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ২৯ হাজার মেগাওয়াটের সক্ষমতা থাকলেও প্রকৃত উৎপাদন মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তিনি ফরেনসিক অডিটের দাবি জানিয়ে বলেন, ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, রান্নার এলপিজির সিলিন্ডার বাজারে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু সরকারের নজরদারি অনুপস্থিত। তিনি দাবি করেন, ভবনের ছাদে ৫০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ সরকারি প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার ওপরে ধরা হয়েছে, যা প্রকৃত খরচের তুলনায় অতিরিক্ত।
"২০০৩ সালের আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, কমিশন শুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করবে। গত ২৩ বছরে কেন এ প্রবিধান তৈরি করা হলো না—তা বৈঠকে জানতে চেয়েছি।"
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট, কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট, কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজিবুর রহমান (জামায়াত), হাসনাত আব্দুল্লাহ (এনসিপি), মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা (ক্যাপাসিটি চার্জ), ২৩ বছর (প্রবিধান তৈরি না হওয়া), ৩১ দিন (ডিজেলের মজুত), ১৪ হাজার মেগাওয়াট (উৎপাদন), ২৯ হাজার মেগাওয়াট (সক্ষমতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!