📌 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এর পাঁচটি হোস্টেলের আয়-ব্যয়ে অনিয়ম ও সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে ৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এর পাঁচটি হোস্টেলের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে। গত ১৯ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে (২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬) এই হোস্টেলগুলো থেকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি ৩ কোটি টাকা। এছাড়াও জমির ভাড়া না পাওয়া, কেনাকাটা ও গাড়িভাড়ায় অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নায়েমের পাঁচটি হোস্টেলের (৫৫২টি সিট) আয়-ব্যয়ে কোনো স্টক রেজিস্টার বা বিল-ভাউচার সংরক্ষণ করা হয়নি।
- 📌 গত পাঁচ বছরে (২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬) হোস্টেলগুলো থেকে ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা আয় হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা।
- 📌 নায়েমের জমিতে তৈরি ক্যাফেটেরিয়া, লন্ড্রি, সেলুন ও মনোহারী দোকানের ১১ বছরের ভাড়া (৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা) জমা দেওয়া হয়নি।
- 📌 ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সের গাড়িভাড়ায় ১২টি গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয় ৪৩ জন কর্মকর্তার জন্য, যার ব্যয় হয়েছিল ৯৬ হাজার টাকা।
- 📌 নায়েমে সরকারি বরাদ্দ ব্যয়ে পিপিআর (Public Procurement Rules) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের একচেটিয়া কাজের অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 নায়েমে বর্তমানে ২৬ ধরনের প্রশিক্ষণ মডিউল রয়েছে, কিন্তু এগুলো সুচিন্তিতভাবে নেওয়া হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 তদন্ত প্রতিবেদনে নায়েমের ঢাকা শহরের বাইরে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এর আট কর্মকর্তা গত ১৯ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তদন্ত চালিয়ে নায়েমের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নায়েমের পাঁচটি হোস্টেলের আয় ও ব্যয়ের কোনো স্টক রেজিস্টার বা বিল-ভাউচার সংরক্ষণ করা হয়নি। গত পাঁচ অর্থবছরে হোস্টেলগুলো থেকে ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা আয় হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা।
তদন্তে দেখা গেছে, নায়েমের জমিতে তৈরি ক্যাফেটেরিয়া, লন্ড্রি, সেলুন ও মনোহারী দোকানের ১১ বছরের ভাড়া (৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা) জমা দেওয়া হয়নি। এছাড়াও ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সের গাড়িভাড়ায় অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অফিস অ্যাটাচমেন্ট ৪০ জন ও কোর্স পরিচালক ৩ জনের জন্য একদিনে ১২টি গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, যার ব্যয় হয়েছিল ৯৬ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ব্যয় অস্বাভাবিক এবং আর্থিক বিধিবিধান ও পিপিআর অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নায়েমে সরকারি বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারই সব ধরনের কাজ (পণ্য সংগ্রহ, পূর্তকাজ) করে থাকেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ও সময়ের অপচয় করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে নায়েমে ২৬ ধরনের প্রশিক্ষণ মডিউল রয়েছে, কিন্তু এগুলো প্রত্যেক প্রশিক্ষণের জন্য সুচিন্তিতভাবে নেওয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে নায়েমের ঢাকা শহরের বাইরে স্থানান্তরেরও সুপারিশ করা হয়েছে। নায়েমের বিদ্যমান কার্যক্রম ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার বাইরে একটি অধিকতর উপযোগী, প্রশস্ত ও পরিকল্পিত স্থানে এর সম্প্রসারণ বা স্থানান্তর করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
"নিয়মানুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় বিধিমোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।"
— পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন, মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ কোটি টাকা (সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া), ৫৫২টি সিট (হোস্টেল), ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা (আয়), ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা (জমির ভাড়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!