📌 ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তিনি দাবি করেছেন, তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন হয়নি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক স্বার্থের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তিনি দাবি করেছেন, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি বলেছেন, এই ধরনের লাইসেন্স বিতরণে পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তিনি দাবি করেছেন, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সরিষা ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া। তবে তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ছিলেন। প্রথম স্থান অধিকারী ছিলেন জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তার।
- 📌 জিয়াউর রহমান দাবি করেছেন, তিনি কোনো ঘুষ দেননি এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বলেছেন, তিনি জানেন যে কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নিয়েছে।
- 📌 জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান দাবি করেছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা লঙ্ঘন হয়নি। তবে তিনি বলেছেন, বাদ গেলে ব্যক্তির কোনো ঘাটতি থাকতে পারে।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান জানিয়েছেন, প্রথম স্থান অধিকারী ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন না থাকায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) লুৎফুল্লাহেল মাজেদের অভিযোগ, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সরিষা ইউনিয়নে এ রকম লাইসেন্স যখন আমাদের ত্যাগী লোকদের বাইরে যায়, আর ফ্যাসিস্টের লোক—এই প্রকৃতির টাকা নিয়ে ঘোরা লোভী মানুষ যখন সবাইকে ডিঙিয়ে লাইসেন্স পায়, তখন উপজেলা ও জেলার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’
এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ আরও বলেছেন, ‘আমি সব জানি, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাইনি। কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি। আমাদের লোকেরা মামলা-হামলা খাবে আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দেবেন, তা হবে না। ...কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের ওপর “অপারেশন ক্লিনহার্ট” চালানো দরকার।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। জেলায় এ নিয়োগের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরিষা ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া। তবে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের দাবি, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ছিলেন। প্রথম স্থান অধিকারী ছিলেন জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তার।
জিয়াউর রহমান নিজেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য বলে দাবি করেছেন। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমি আবেদন করার পর মুঠোফোনে কথা বলে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি কাউকে একটি টাকাও ঘুষ দিইনি। জেলা প্রশাসনের কারও সঙ্গেও যোগাযোগ করিনি।’
জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেছেন, ‘যিনি বাদ গেছেন, নিশ্চয়ই তাঁর কোনো ঘাটতি ছিল। তালিকায় থাকা দুই নম্বর ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন—তাঁর কী ঘাটতি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালার বাইরে কোনো কিছু করা হয়নি। সংক্ষুব্ধ যে কেউ হতেই পারে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান জানিয়েছেন, ‘শুধু জেলা প্রশাসক স্যারকে মুঠোফোনে জানিয়েছিলাম, দ্বিতীয়জন আমার কাছে অভিযোগ দিয়ে গেছে প্রথমজনের আয়কর রিটার্ন নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল। বিষয়টি সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছিল।’
"আমাদের লোকেরা মামলা-হামলা খাবে আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দেবেন, তা হবে না। ...কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের ওপর 'অপারেশন ক্লিনহার্ট' চালানো দরকার"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ জেলা, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা, সরিষা ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৫ ইউনিয়ন, ১৫৬ জন ডিলার, ১১ ইউনিয়ন + ১ পৌরসভা, ১২ জন ডিলার, ১ হাজার ৭০০টি আবেদন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!