📌 ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মডেল মসজিদ পরিচালনার নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের বেতন-সম্মানী, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বিষয়ে সকল নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া যাবে
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মডেল মসজিদ পরিচালনার জন্য নতুন ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা মডেল মসজিদগুলোকে নামাজের কেন্দ্র থেকে ধর্মীয় শিক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রণীত। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মডেল মসজিদে ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
- 📌 খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীদের পদ চুক্তিভিত্তিক এবং তাদের বেতন মসজিদ কমিটি নির্ধারণ করবে।
- 📌 মডেল মসজিদে কর্মরত জনবলকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের বিশ্বস্ততা ও সততা নিশ্চিত করতে হবে।
- 📌 ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগের মাসের সম্মানীর সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
- 📌 মডেল মসজিদে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফযখানা ও শিশুদের মক্তব শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
- 📌 মসজিদ কমিটির দায়িত্বে রয়েছে মসজিদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, আয়-ব্যয়ের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
- 📌 মসজিদের যাবতীয় আয় অনধিক সাত দিনের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মডেল মসজিদের ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ, বেতন-ভাতা, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম, আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং মসজিদের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া যেতে পারে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীদের পদ চুক্তিভিত্তিক থাকবে এবং তাদের বেতন মসজিদ কমিটি নির্ধারণ করবে।
নীতিমালায় মডেল মসজিদে কর্মরত জনবলকে মসজিদের আমানতদার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্বস্ততা, সততা, পরহেজগারি ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন না। অনুমোদিত ছুটি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করারও নির্দেশনা রয়েছে।
নীতিমালায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭-এ বর্ণিত জনবলকে সংশ্লিষ্ট ঈদের আগের মাসের সম্মানীর সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদ ভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি রাখার বিধান করা হয়েছে। মসজিদে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফযখানা এবং শিশুদের মক্তব শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বের মধ্যে জুমার সালাত বা নামাজ, প্রাক-খুতবা ও খুতবা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সালাত এবং জানাজার সালাতের আয়োজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রমজান মাসে তারাবি নামাজের জন্য হাফেজ নিয়োগ ও তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিরক, বেদআত, অপসংস্কৃতি, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গুজব ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাক-খুতবা ও খুতবার আয়োজন করতে হবে।
"মডেল মসজিদগুলোকে ধর্মীয় শিক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এই নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। মসজিদের পবিত্রতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মসজিদের উন্নয়ন ও সংস্কারের দায়িত্বও মসজিদ কমিটির ওপর থাকবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ সেপ্টেম্বর (প্রজ্ঞাপন জারি), ২০ হাজার টাকা (ইমামের সম্মানী), ১৫ হাজার টাকা (মুয়াজ্জিনের সম্মানী), ১২ হাজার টাকা (খাদিমের সম্মানী), ৭ দিন (আয় জমা দেওয়ার সময়সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!