📌 ময়মনসিংহে সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতারা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়ী ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের নিয়োগে প্রশ্ন উঠেছে। জেলায় বিক্ষোভ ও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে
ময়মনসিংহে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতারা সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়ী ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের নিয়োগে প্রশ্ন তুলেছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন সংঘটিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহে ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন ও ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্ত
- 📌 বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ১ নম্বর ক্রমে পাঠানো নামগুলোই মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে
- 📌 ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ অভিযোগ করেছেন, ডিলারশিপ পাওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে
- 📌 ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের ভাই ও মামা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন
- 📌 ১ হাজার ৭৪৪টি আবেদন থেকে ১৫৬ জন ডিলার নির্বাচিত, তিন মাস পর পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহ জেলায় সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন ও ব্যবসায়ী ডিলারশিপ পেয়েছেন। গত ৩১ আগস্ট জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ জন্য ১ হাজার ৭৪৪টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ডিলার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ বলেছেন, ‘হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্যাসিস্টের দোসরদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন যাদের নাম ১ নম্বর ক্রমে পাঠিয়েছে, মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে তাদেরই ডিলার নিয়োগ দিয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে তাদের নাম ১ নম্বরে গিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ বলেছেন, ‘সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন হলেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পাবেন না। যদি তারা যোগ্য হলে এবং তাদের চেয়ে যোগ্য কেউ না থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। তিন মাস পর পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।’
ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ অভিযোগ করেছেন, ‘কে কোথা থেকে কত পারসেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবে, আর অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া হবে—এমনটা হতে পারে না।’
ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের ভাই ও মামা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। তালিকা অনুযায়ী, গফরগাঁওয়ের লংগাইর ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের ছোট ভাই ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে, যশরা ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের চাচাতো শ্যালকের প্রতিষ্ঠানটি ডিলারশিপ পেয়েছে। সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক ত্যাগ, ব্যবসায়িক যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার কোনো চাচাতো শ্যালক নেই। ভাই ও মামা তাঁদের যোগ্যতায় পেয়েছেন।’
"হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্যাসিস্টের দোসরদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন যাদের নাম ১ নম্বর ক্রমে পাঠিয়েছে, মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে তাদেরই ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম ১ নম্বরে গেল?"
"সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন হলেই তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পাবেন না, এমন নয়। তাঁরা যোগ্য হলে এবং তাঁদের চেয়ে যোগ্য কেউ না থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। তিন মাস পর পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ জেলা (হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ঈশ্বরগঞ্জ, গফরগাঁও উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ এমরান সালেহ (বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব), লুৎফুল্লাহেল মাজেদ (বিএনপি এমপি), মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান (বিএনপি এমপি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৫ ইউনিয়ন, ১৫৬ জন ডিলার, ১ হাজার ৭৪৪টি আবেদন, ৯ অক্টোবর (তালিকা প্রকাশ), ৩১ আগস্ট (বিজ্ঞপ্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!