📌 জামালপুরের বকশীগঞ্জে কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হলেও শতভাগ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। পিআইও নিজেকে সৎ বলে দাবি করলেও অভিযোগের মুখে দাঁড়ালেন না
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ নামমাত্র করা হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়নি, কিন্তু কাগজে-কলমে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হাবীবুর রহমান সুমন নিজেকে ‘সৎ’ বলে দাবি করলেও অভিযোগের মুখে দাঁড়ালেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ পেয়েছে বকশীগঞ্জে ৪৬ মেট্রিক টন ২০০ কেজি গম এবং ৩৪ টন ২০০ কেজি চাল। এতে মোট ১২টি প্রকল্প নেওয়া হয়।
- 📌 ৩০ জুন প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কিছু প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয়রা দাবি, কাজ করতে কেউ আসেনি।
- 📌 উজান খেওয়ারচর থেকে হজরত আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ পেয়েছে ৬ টন গম। কিন্তু প্রকল্পের সভাপতি খোরশেদা বেগম জানান, মাত্র নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
- 📌 ঘুগরাকান্দি থেকে বাঘাডোবা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ পেয়েছে ৯ টন চাল। স্থানীয়রা দাবি, ২৫-৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে।
- 📌 পিআইও নিজেকে ‘সৎ’ বলে দাবি করলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাগুজে কমিটি ও ভুয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে চাল-গম আত্মসাৎ করা হয়েছে।
- 📌 উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর দাবি করেন, কমিটি ও দলীয় নেতারা প্রকল্পের কাজ করেছেন। তবে প্রকল্পের স্থান চিহ্নিত করতে পারেননি সভাপতি।
📰 বিস্তারিত
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ নামমাত্র করা হয়েছে। আবার কিছু প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়নি। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হাবীবুর রহমান সুমন নিজেকে ‘সৎ’ বলে দাবি করলেও অভিযোগের মুখে দাঁড়ালেন না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক স্থানীয় এমপি ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের কোটায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য কাবিখা কর্মসূচিতে বকশীগঞ্জে তিন দফায় ৪৬ মেট্রিক টন ২০০ কেজি গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই দফায় ৩৪ টন ২০০ কেজি চাল বরাদ্দের বিপরীতে আরও পাঁচটি প্রকল্প নেওয়া হয়।
গত জুনের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে জেলা থেকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতিদের স্বাক্ষরে খাদ্যগুদাম থেকে চাল-গম উত্তোলন করা হয়। ৩০ জুন প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজের বিনিময়ে খাদ্যশস্য বরাদ্দের অধিকাংশ প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
উজান খেওয়ারচর ইকবালের বাড়ি থেকে হজরত আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ছয় টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও রাস্তার একাংশে মাহিন্দ্রা দিয়ে নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি ও মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য খোরশেদা বেগম জানান, ‘আমার স্বাক্ষর নিয়ে পিআইও কার্যালয়ের লোকজন গম উত্তোলন করেছেন এবং কিছু কাজও করেছেন।’
খেওয়ারচর বাবুর বাড়ি থেকে বাতেনের বাড়ি এবং খোকনের বাড়ি থেকে বাতেনের বাড়ি পর্যন্ত দুটি রাস্তা সংস্কারে ছয় টন করে মোট ১২ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে কাজ শুরুই হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা বাবু বলেন, ‘কাজ করতে কেউ আসেনি। বাধ্য হয়ে নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার বড় গর্তগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করেছি।’
ঘুগরাকান্দি মুন্দিপাড়া ব্রিজসংলগ্ন গোলাপের দোকান থেকে ঘুগরাকান্দি বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে নয় টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয় সুজন, আলমাস ও কবীরের দাবি, সেখানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে।
অন্যান্য প্রকল্পেও তেমন কোনো কাজ দেখা যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কোথাও নামমাত্র কাজ করে, আবার কোথাও কাজ না করেই পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া মাস্টাররোল ও কাগুজে কমিটি দেখিয়ে বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎ করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর দাবি করেন, ‘ইউপি মেম্বাররা কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে করেছেন। প্রকল্পের কাজে দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়িত নন।’ তবে প্রকল্পের স্থান চিহ্নিত করতে পারেননি সভাপতি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হাবীবুর রহমান সুমন বলেন, ‘আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি অত্যন্ত সৎ অফিসার। যথাযথভাবে কাজ করা হয়েছে।’
"আমি অত্যন্ত সৎ অফিসার। যথাযথভাবে কাজ করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুর জেলা, বকশীগঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন, খোরশেদা বেগম, মানিক সওদাগর, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ মেট্রিক টন ২০০ কেজি গম, ৩৪ টন ২০০ কেজি চাল, ১২টি প্রকল্প, ৩০ জুন (মেয়াদ শেষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!