📌 জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস পরও কাজ শুরু না হলেও ‘কাগজে শতভাগ’ বাস্তবায়ন দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দায় এড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সরকারের কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস পরও মাঠে কাজ শুরু না হলেও ‘কাগজে শতভাগ’ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, প্রকল্পের সভাপতিদের অবগত না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে সরকারি বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জামালপুর-১ আসনের এমপি ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের কোটায় বকশীগঞ্জে ৪৬ টন ২০০ কেজি গম ও ৩৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও ১ অক্টোবর পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।
- 📌 ৬ টন গম বরাদ্দের রাস্তায় নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে, কিন্তু প্রকল্পের সভাপতিরা প্রকল্পের বিষয়ে অবগত নন।
- 📌 ৩ অক্টোবর খবর প্রকাশের পরও ১২ টন গম বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
- 📌 পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন দাবি করেছেন, কাজ ‘চমৎকার’ হয়েছে, কিন্তু স্থানীয়রা দায় এড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন।
📰 বিস্তারিত
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সরকারের কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস পরও কাজ শুরু না হলেও ‘কাগজে শতভাগ’ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, প্রকল্পের সভাপতিদের অবগত না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে সরকারি বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের এমপি ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের কোটায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য কাবিখা কর্মসূচির আওতায় তিন দফায় বকশীগঞ্জে ৪৬ টন ২০০ কেজি গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই দফায় ৩৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার আওতায় নেওয়া হয় পাঁচটি প্রকল্প।
গত জুনের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে জেলা থেকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়। এরপর কাজ শুরুর জন্য প্রকল্পের সভাপতিদের স্বাক্ষরে খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দের চাল ও গম উত্তোলন করা হয়। গত ৩০ জুন প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়। এর আগেই কাগজে-কলমে সব প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, সিংহভাগ প্রকল্পের সভাপতি প্রকল্পের বিষয়ে অবগত নন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উজান খেওয়ারচর ইকবালের বাড়ি থেকে হযরত আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ছয় টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও রাস্তার উত্তর পাশে নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে। ঘুগরাকান্দি মুন্দিপাড়া ব্রিজসংলগ্ন গোলাপের দোকান থেকে ঘুগরাকান্দি বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে নয় টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই রাস্তার একাংশে মাহিন্দ্র গাড়ি দিয়ে নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে।
১ অক্টোবর আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘কাজ না করেই কাবিখা প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গত শনিবার (৩ অক্টোবর) খেওয়ারচর বাবুর বাড়ি থেকে বাতেনের বাড়ি পর্যন্ত এবং খোকনের বাড়ি থেকে বাতেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। দুটি প্রকল্পেই ছয় টন করে মোট ১২ টন গম বরাদ্দ ছিল। তবে কাজ শেষ না করেই বর্তমানে তা বন্ধ রাখা হয়েছে।
"আমার বাড়ি থেকে রাস্তা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগে ১০-১২ জন শ্রমিক এসে রাস্তায় মাটি কেটেছে। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভাঙাচোরা রাস্তা আগের রূপেই রয়েছে। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা বলা যাচ্ছে না। মনে হয়, দায় এড়ানোর জন্যই কাজটি করা হয়েছে।"
বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ দেখভাল করা হয় পিআইওর কার্যালয় থেকে। এ ছাড়া আমি প্রকল্পের বিষয়ে পুরোপুরি জানি না। বিষয়টি পিআইও ভালো বলতে পারবেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় বাসিন্দা বাবু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ টন ২০০ কেজি গম, ৩৪ টন চাল, ৩০ জুন (মেয়াদ শেষ), ১ অক্টোবর (খবর প্রকাশ), ৩ অক্টোবর (কাজ শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!