📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ কোটি টাকার দুটি চিকিৎসা যন্ত্র বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দুদকের অভিযানে ক্যাথল্যাব ও লিনিয়ার এক্সেলেটরের অনিয়ম, এমএসআর কেনাকাটার অস্বাভাবিকতা এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জমা না হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ২৩ কোটি টাকার মূল্যে কেনা দুটি চিকিৎসা যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় বাক্সবন্দী পড়ে রয়েছে। এছাড়াও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জমা না হওয়ার মতো অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় হাসপাতালে দুই দিনের অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেলে ২৩ কোটি টাকার যন্ত্র বাক্সবন্দী — লিনিয়ার এক্সেলেটর (১৪ কোটি) ও ক্যাথল্যাব (৮ কোটি ৮৮ লাখ) চালু হয়নি
- 📌 ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কেনা যন্ত্র দুটি চালু না করেই ঠিকাদারদের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে
- 📌 এমএসআর কেনাকাটায় ফেব্রিকস ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি, হেক্সাটন ওষুধের বোতল অতিরিক্ত পাওয়া গেছে
- 📌 সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ফিল্মসহ সামগ্রীর বিল পরিশোধ করা হয়েছে
- 📌 সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জমা না হওয়া, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি নষ্ট
- 📌 দুদক নথিপত্র সংগ্রহ করে দায় নির্ধারণের জন্য প্রধান কমিশনারকে প্রেরণ করবে
📰 বিস্তারিত
দুদকের অভিযান শুরু হয় গত সোমবার সকাল ১০টায় এবং মঙ্গলবার রাত ৮টায় শেষ হয়। সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজের নেতৃত্বে আট সদস্যের দল হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করে। অভিযানে রোগীদের হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ এবং কেনাকাটাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ক্যানসার ইউনিটের জন্য ১৪ কোটি টাকায় কেনা লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্রটি এখনো বাক্সবন্দী অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে কার্ডিওলজি বিভাগের জন্য ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও যন্ত্রটি চালু করা হয়নি। দুদকের অভিযোগ, যন্ত্র দুটি চালু না করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এছাড়াও, এমএসআর কেনাকাটায় অস্বাভাবিকতা উঠে এসেছে। ফেব্রিকস নামের ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি এবং হেক্সাটন নামের ওষুধের বোতল অতিরিক্ত পাওয়া গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর কেনাকাটার কার্যাদেশে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্মসহ সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসব সরবরাহ করেনি। তবে অন্য সামগ্রীর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া আদায় ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। গত এক মাসে কোনো অর্থ জমা হয়নি। হাসপাতালে পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, যার মধ্যে দুটি নষ্ট। বাকি তিনটি চালু থাকলেও তাদের ভাড়ার টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়েনি।
"অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিনটি কেনা হয়েছে। আর ক্যাথল্যাব চালু না করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সব নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
— সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ, হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ কোটি টাকা (যন্ত্রের মূল্য), ১৪ কোটি টাকা (লিনিয়ার এক্সেলেটর), ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা (ক্যাথল্যাব), ৭৬২ বোতল (ফেব্রিকস ওষুধের ঘাটতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!