📌 ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নান্নু মোল্যা দাবি করেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা তাঁর বিকাশে আসে। তিনি নিজেই সংশোধন করে উপকারভোগীকে পুরো টাকা ফেরত দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে
ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নান্নু মোল্যা দাবি করেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে তাঁর বিকাশ নম্বরে এক নারীর মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আসে। তিনি নিজেই সংশোধন করে উপকারভোগীকে পুরো টাকা ফেরত দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের মতো অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নান্নু মোল্যা দাবি করেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে তাঁর বিকাশ নম্বরে রুপা বেগমের মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আসে।
- 📌 রুপা বেগমের আবেদন করার সময় ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে আবেদন করা যাচ্ছিল না, তাই তাঁকে জানিয়ে ইউপি সদস্যের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল।
- 📌 নান্নু মোল্যা নিজেই ২৮ জুন মহিলা অধিদপ্তরে সংশোধন করে রুপা বেগমের ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে আবেদন ঠিক করে দিয়েছিলেন।
- 📌 প্রতি মাসে ৮৫৫ টাকা তাঁর বিকাশে আসত, ছয় মাসের টাকা জমা হলে ইউনিয়ন পরিষদের ভাউচার দিয়ে রুপা বেগমকে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
- 📌 ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া জানান, কারিগরি ত্রুটি ছিল এবং সব টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
- 📌 নির্বাচনের আগে নান্নু মোল্যার বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে মো. নান্নু মোল্যা বলেন, উপকারভোগী রুপা বেগম তাঁর নিকটাত্মীয়। রুপা বেগম কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কাচারদিয়া গ্রামের আসলাম শেখের স্ত্রী। তিনি জানান, রুপা বেগম মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করার সময় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। ওই মাসের ২০ তারিখের আবেদনের শেষ সময়ে রুপা বেগমের ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে আবেদন করার সময় বারবার লেখা আসে যে, এই হিসাব দিয়ে আগে আবেদন করা হয়েছে। তখন তিনি উদ্যোক্তা ওমর ফারুককে অনুরোধ করেন, যেভাবেই হোক আবেদনটি সম্পন্ন করতে। পরে রুপা বেগমের বিকাশ নম্বর না থাকায় তাঁর (নান্নু মোল্যার) বিকাশ নম্বর দিয়ে আবেদন করা হয় এবং সফল হয়।
নান্নু মোল্যা বলেন, ‘আমি জানতাম না যে, আমার বিকাশে টাকা আসবে। পরে আমি সংশোধন করতে বলি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমি নিজেই ২৮ জুন মহিলা অধিদপ্তরে গিয়ে রুপা বেগমের ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে সংশোধন করে দিয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, সংশোধনের পর প্রতি মাসে তাঁর বিকাশে ৮৫৫ টাকা আসত। ছয় মাসের টাকা জমা হলে ইউনিয়ন পরিষদের ভাউচার দিয়ে রুপা বেগমকে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বর্তমানে রুপা বেগমের ব্যাংক হিসাবেই টাকা আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপকারভোগী রুপা বেগম বলেন, ‘আবেদনের সময় আমার ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে আবেদন করা যাচ্ছিল না। বিকাশ নম্বর না থাকায় আমাকে জানিয়ে ইউপি সদস্যের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সদস্য নিজেই আমার হিসাব ঠিক করে দিয়েছেন এবং বর্তমানে টাকাও আসছে। এটা নিয়ে এত কিছু হয়ে গেছে, আমিও জানি না।’
ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ওমর ফারুকও বিষয়টি জানান। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি উপকারভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে জানান, সব টাকা তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং সংশোধন করে তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই সমস্যাটি হয়েছে। তারপরও আমি সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছি, এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত ভুলও করা যাবে না।’
"মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য প্রতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করা হয়। ওই মাসের আবেদনের শেষ সময়ে আবেদনটি করার সময় রুপার ব্যাংক হিসাব নম্বর দিলে বারবার লেখা আসে, এই হিসাব দিয়ে আগে আবেদন করা হয়েছে। তখন আমি উদ্যোক্তাকে অনুরোধ করি, যেভাবেই হোক এটি করে দিতে হবে। পরে রুপার বিকাশ নম্বর না থাকায় আমার নম্বর দিয়ে আবেদন করা হয় এবং আবেদনটি সফল হয়। সেটি আমিও জানতাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর সদর, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন (৩ নম্বর ওয়ার্ড), কাচারদিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নান্নু মোল্যা (ইউপি সদস্য), রুপা বেগম (উপকারভোগী), ওমর ফারুক (উদ্যোক্তা), এ কে এম বাদশা মিয়া (ইউনিয়ন চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (ওয়ার্ড নম্বর), ২০ (মাসের তারিখ), ২৮ (জুন), ৮৫৫ (টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!