📌 মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে মোট ৬৪টি পদের মধ্যে ৬০টি ফাঁকা। ৯৪% পদ ফাঁকা থাকায় জনবল সংকটে পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সংকটের কথা উঠে এসেছে
মহিলা ও শিশু নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে মোট ৬৪টি পদের মধ্যে ৬০টি ফাঁকা রয়েছে। এই ৯৪ শতাংশ পদ ফাঁকা থাকায় প্রতিষ্ঠানটি জনবল সংকটে ভুগছে। বৃহস্পতিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই তথ্য উন্মোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯৪% পদ ফাঁকা**: মোট ৬৪টি পদের মধ্যে ৬০টি ফাঁকা, যার মধ্যে ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের পদ শূন্য রয়েছে।
- 📌 **জনবল সংকটের কারণ**: ৩৪ জন কর্মকর্তা আদালতে মামলা করে আত্তীকরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের নিয়োগ সম্পন্ন হলে ৩৪টি বিশেষায়িত পদ পূরণ হবে।
- 📌 **অপরাধ শনাক্তে ডিএনএ ল্যাবের ভূমিকা**: সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ডিএনএ পরীক্ষাই অপরাধীদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই ল্যাবের অবহেলা অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
- 📌 **ঢাকার বাইরের ল্যাবগুলো অকার্যকর**: সংসদ সদস্যরা ঢাকার বাইরের বিভাগীয় ল্যাবগুলোকে পুরোদমে কার্যকর করার দাবি তুলেছেন।
- 📌 **বাল্যবিবাহের ঘটনা রোধে প্রচার জোরদার**: সংসদ সদস্যরা যশোরের বাল্যবিবাহের ঘটনাকে উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রচারকে আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
২০০৬ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি’। পরবর্তীতে ২০২০ সালে গঠিত হয় ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তরের অধীন ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিটি ঢাকা মেডিকেল কলেজে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়াও সাতটি বিভাগে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে, যেখানে মূলত নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং করা হয়। সংগৃহীত নমুনাগুলো ঢাকার জাতীয় ল্যাবে পাঠিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়।
সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার পরিচিতিমূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের অনুমোদিত পদের মধ্যে মহাপরিচালক, পরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালকসহ কিছু পদে অন্যান্য দপ্তর থেকে সংযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের পদসহ মোট ৬০টি পদ ফাঁকা রয়েছে।
সংস্থাটি জনবল সংকট, যানবাহন সংকট ও নিজস্ব স্থাপনা না থাকাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ডিএনএ ল্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই জনবল সংকটের পেছনে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অতীতে প্রকল্পে কাজ করা ৩৪ জন কর্মকর্তা অধিদপ্তরে আত্তীকরণের জন্য আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে ৩৪টি পদ পূরণ হবে, যার সবকটিই বিশেষায়িত পদ।
বৈঠকে একজন সংসদ সদস্য ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের জনবল সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অপরাধীরা সবসময় অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে, কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তিনি এই অধিদপ্তরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার এবং ঢাকার বাইরের বিভাগীয় ল্যাবগুলোকে পুরোদমে কার্যকর করার পরামর্শ দেন।
অপর একটি সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, সম্প্রতি যশোরে মাইকিং করে বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হলেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা রোধে বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচার আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
"অপরাধীরা সব সময় অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে; কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই অধিদপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবহেলা কেন, এমন প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা; সাতটি বিভাগীয় ল্যাব (সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ নেই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংসদ সদস্য, ডিএনএ ল্যাব কর্মকর্তা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৪%, ৬৪টি পদ, ৬০টি ফাঁকা পদ, ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট, ৩৪ জন কর্মকর্তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!