📌 বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্মকর্তারা প্রতিমাসে মূল বেতনের ৬০% রেগুলেটরি ভাতা দাবি করে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তারা রাজস্ব আদায়ের অঙ্ককে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে সমর্থন করেন না। ২৫ বছরে বিটিআরসি মোট ৮৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিমাসে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে ‘রেগুলেটরি ভাতা’ দেওয়ার দাবি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বিটিআরসির ভূমিকা, টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং চাকরি ছাড়ার ছয় মাস পর্যন্ত অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিকে সমর্থন করেন না এবং বলছেন, শুধু রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ভাতার যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যায় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিটিআরসি কর্মকর্তারা সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন: প্রতিমাসে মূল বেতনের ৬০% রেগুলেটরি ভাতা দেওয়ার জন্য
- 📌 যুক্তি হিসেবে দাবি করা হয়েছে: ২৫ বছরে ৮৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়, টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব ও চাকরি ছাড়ার বাধ্যবাধকতা
- 📌 সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিটিআরসির রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৬ কোটি টাকা
- 📌 বিশেষজ্ঞদের দাবি: শুধু রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দিয়ে নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের ভাতা নির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়
- 📌 সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন: রাজস্ব আদায়ের অজুহাতে বাড়তি ভাতা দাবি যুক্তিসঙ্গত নয়
- 📌 চলতি বছরে চার মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের মোট ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্মকর্তারা সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তারা প্রতিমাসে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে ‘রেগুলেটরি ভাতা’ দেওয়ার দাবি করেছেন। এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বিটিআরসির ভূমিকা, টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং চাকরি ছাড়ার ছয় মাস পর্যন্ত অন্য কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করেছেন। বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এই প্রস্তাবের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে এবং সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতার যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যায় না। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বিটিআরসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬০ শতাংশ রেগুলেটরি ভাতা নেওয়ার যুক্তিকে সমর্থন করেন না। তিনি বলেছেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব আদায় করা বিটিআরসির কাজের অংশ। এটার জন্যই তারা চাকরিতে এসেছেন। তাই রাজস্ব আদায় বেশি করার অজুহাতে বাড়তি কিছু দাবি করা যুক্তিসঙ্গত নয়।’
বিটিআরসির অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১-০২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ২৫ বছরে বিটিআরসি মোট ৮৫ হাজার ৭৭৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের রাজস্ব আয় সংক্রান্ত বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বিটিআরসির জন্য রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। ২০২৭-২৮ অর্থ বছরে তা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থ বছরের জন্য ৭ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিটিআরসির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বড় হলেও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কমিশনের কাজের মূল্যায়ন শুধু রাজস্বের অঙ্ক দিয়ে করা যায় না। টেলিযোগাযোগ খাতের সেবার মান, গ্রাহকের অভিযোগ, অপারেটরদের লাইসেন্সের শর্ত মানা, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়েও টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের বিপুল অঙ্কের পাওনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি বছরের জুনে সংসদে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, দেশের চার মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের মোট ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ, টেলিটকের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি, রবির কাছে ৬১৫ কোটি এবং বাংলালিংকের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
"টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব আদায় করা বিটিআরসির কাজের অংশ। এটার জন্যই তারা চাকরিতে এসেছেন। তাই রাজস্ব আদায় বেশি করার অজুহাতে বাড়তি কিছু দাবি করা যুক্তিসঙ্গত নয়।"
— এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার, বিটিআরসি কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শতাংশ, ৮৫ হাজার ৭৭৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ৬ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!