📌 সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুইটি বালুমহালে দরপত্র ছাড়াই বিএনপির নেতা নাছির মিয়া বালু উত্তোলনের দায়িত্ব পেয়েছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রশাসন তাকে বালুমহাল দুটির দখল বুঝিয়ে দিয়েছে, যা আইন-কানুনে প্রশ্ন উঠাচ্ছে
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর দুইটি বালুমহালে দরপত্র ছাড়াই বালু উত্তোলনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির নেতা নাছির মিয়া। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আদেশে তিনি এই বালুমহাল দুটিতে বালু উত্তোলন করবেন ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে এই ব্যবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, কারণ আইন অনুযায়ী দরপত্র ছাড়াই বালুমহালের দখল দেওয়া বৈধ নয় বলে আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক ইজারাদাররা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দরপত্র ছাড়াই বালুমহাল: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর বালুমহাল-১ ও বালুমহাল-২-এ বালু উত্তোলনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির নেতা নাছির মিয়া।
- 📌 বালুমহালের মেয়াদ: তিনি ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই বালুমহাল দুটিতে বালু উত্তোলন করতে পারবেন।
- 📌 অতিরিক্ত ১২ শতাংশ দর: বালু উত্তোলনের জন্য গড় বাজারমূল্যের ১২ শতাংশ অতিরিক্ত দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 ৪২ কোটি টাকার রাজস্ব: বালুমহাল দুটির অবশিষ্ট সময়ের জন্য রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা।
- 📌 আইন-কানুনে প্রশ্ন: সাবেক ইজারাদাররা দাবি করেছেন, দরপত্র ছাড়াই বালুমহালের দখল দেওয়া আইনের বিরুদ্ধে।
📰 বিস্তারিত
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নাছির মিয়াকে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের দখল বুঝিয়ে দেন। নাছির মিয়া তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, তিনি বালুমহাল দুটি থেকে বালু উত্তোলন করতে পারবেন ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
দরপত্র ছাড়াই এই ব্যবস্থায় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ইজারাদাররা। ১৪৩২ বঙ্গাব্দে জিনান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ রুবেল আহমদ ও মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের মালিক নাছির মিয়া বালুমহাল দুটি ইজারা নিয়েছিলেন। কিন্তু মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় ইজারা নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর তারা বালুমহাল দুটির দখল পান। ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তারা হাইকোর্টে রিট দাখিল করে আরও পাঁচ মাসের জন্য বালু উত্তোলনের অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালত তাদের পক্ষে আদেশ দিলেও জেলা প্রশাসন আপিল করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাদের ক্ষতিগ্রস্ত নন বলে আদেশ দিলে প্রশাসন বালুমহাল দুটিতে বালু উত্তোলন বন্ধের বিজ্ঞপ্তি দেয়।
এরপর জেলা প্রশাসন বালুমহাল দুটির পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর আহ্বায়িত জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা স্থগিত হয়। এর মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুধু নাছির মিয়াকে বালুমহাল দুটির দখল দেওয়া হয়। অন্যদের রিটের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ার পরই এই ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।
"মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আদেশে এভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া যথাযথ হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রকাশ্য দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া অথবা খাস আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা।"
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নাছির মিয়াকে বালুমহাল দুটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় তাদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারেই প্রশাসন কাজ করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তাহিরপুর উপজেলা, সুনামগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাছির মিয়া (বিএনপি নেতা), কামরুজ্জামান কামরুল (সাংসদ), শাহ রুবেল আহমদ (সাবেক ইজারাদার), তাপস শীল (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল (মেয়াদ শেষ), ১২ শতাংশ (অতিরিক্ত দর), ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা (রাজস্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!