📌 জন্মনিবন্ধনে উদ্ভট নাম ও ভুলের কারণে প্রতি বছর লাখো নাগরিককে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। রেজিস্ট্রার জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ৫৩ লাখের বেশি জন্মনিবন্ধন সংশোধন হয়েছে। সরকারি ফি ও সময়ের বিনাশ ছাড়াও, অভিযোগ রয়েছে যে নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃত ভুল করে টাকা খাওয়ায়
জন্মনিবন্ধন একজন নাগরিকের জীবনের মৌলিক রাষ্ট্রীয় নথি। শিক্ষা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরি বা ব্যাংকিংসহ নানা সেবায় এর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে উদ্ভট নাম যেমন ‘ক্জ্ক্ল্জ্’, ‘লক্জ্ক্’, ‘দতককা’ বা ‘LJKLJF’ দেখা যাচ্ছে। এই ভুলের ব্যাপকতা এতটাই যে এটি রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টে ৫৩ লাখ ২৪ হাজার নতুন জন্মনিবন্ধন হয়েছে, এর মধ্যে ৩৫ লাখ সংশোধন করা হয়েছে
- 📌 গত বছর জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সংশোধন হয়েছে প্রায় ৭৯ লাখ ১৭ হাজার
- 📌 ২০২৩ সালে শুধু বাংলা সনদের ভুলের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল
- 📌 নাম-ঠিকানা সংশোধনের সরকারি ফি ৫০ টাকা; চলতি বছরে নাগরিকেরা এ বাবদ দিয়েছেন প্রায় ১৭ কোটি টাকা
- 📌 ঢাকায় অনলাইনে আবেদন করেও নাগরিককে কাউন্সিলর বা স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়
- 📌 অভিযোগ রয়েছে নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃত ভুল করে টাকা খাওয়ায়
📰 বিস্তারিত
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে নতুন জন্মনিবন্ধন হয়েছে ৫৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি। একই সময়ে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে জন্মনিবন্ধন সংশোধন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ। গত বছর জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সংশোধন হয়েছে প্রায় ৭৯ লাখ ১৭ হাজার। প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুলসংখ্যক সংশোধনের পিছনে কী কারণ? এবং যে ভুল নাগরিক করেননি, সেই ভুল সংশোধনের দায় কেন নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়?
প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগে শুধু বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় সনদ নেওয়ার সময় অন্য ভাষার ঘরে যথেচ্ছ তথ্য বসিয়ে দেওয়া হতো। ফলে এক ভাষার সনদ ঠিক থাকলেও অন্য ভাষায় উদ্ভট নাম-ঠিকানা উঠে এসেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা কয়েক বছর ধরে এসব ভুল সংশোধন করছেন। ২০২৩ সালের এক বিশ্লেষণে শুধু বাংলা সনদের ভুলের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এত বিপুল ভুলের পরও কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তা বিনা মূল্যে সংশোধনের উদ্যোগ নিল না?
নাগরিকদের দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। নাম-ঠিকানা সংশোধনের সরকারি ফি ৫০ টাকা। চলতি বছরের আট মাসে নাগরিকেরা এ বাবদ দিয়েছেন প্রায় ১৭ কোটি টাকা; গত বছর দিয়েছেন ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি। এর বাইরে কম্পিউটারের দোকান, যাতায়াত ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার ব্যয়ও রয়েছে।
সর্বশেষ, অভিযোগ রয়েছে যে নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃত ভুল করে টাকা খাওয়ায়। যত ভুল, তত সংশোধন; যত সংশোধন, তত অর্থের লেনদেন। অভিযোগটি সত্য কি না, তা অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যদি দীর্ঘদিনেও এমন অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত না করে, তাহলে সন্দেহ থেকেই যায়।
"নাগরিকের সচেতনতা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে নাগরিক সঠিক তথ্য দেওয়ার পর নিবন্ধন কার্যালয় ভুল করলে তার দায় নাগরিকের নয়। আমরা মনে করি, পুরোনো ভুলের নিরীক্ষা করে দায় নির্ধারণ, বিনা ফিতে ভুল সংশোধন, আবেদনকারীর চূড়ান্ত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, দেশের বিভিন্ন জন্মনিবন্ধন কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাগরিকেরা, কর্মকর্তারা, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩ লাখ ২৪ হাজার (নতুন জন্মনিবন্ধন), ৩৫ লাখ (সংশোধন), ৭৯ লাখ ১৭ হাজার (গত বছরের সংশোধন), ১০ কোটি (বাংলা সনদের ভুল), ৫০ টাকা (সংশোধন ফি), ১৭ কোটি টাকা (চলতি বছরের ফি), ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা (গত বছরের ফি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!