📌 সরকার ঢাকার আবদুল গণি রোড থেকে সচিবালয় স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করেছে শেরে বাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে। প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও এই প্রকল্পের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
সরকার ঢাকার আবদুল গণি রোড থেকে সচিবালয় স্থানান্তর করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে যে, এটি কি প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জনসাধারণের কাছে আরও কাছাকাছি আনবে অথবা ক্ষমতার কেন্দ্রকে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করবে মাত্র। সরকারের প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিষয়টিকে আর নিছক আলোচনার স্তরে রাখে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
- 📌 শেরে বাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তর করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে যে, এটি কি প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জনসাধারণের কাছে আরও কাছাকাছি আনবে অথবা ক্ষমতার কেন্দ্রকে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করবে মাত্র?
- 📌 আইয়ুব খানের আমলে শেরে বাংলা নগর পরিকল্পিত হয়েছিল পাকিস্তানের ‘দ্বিতীয় রাজধানী’ হিসেবে, কিন্তু বর্তমানে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে গেছে।
- 📌 শেরে বাংলা নগরের মাঠে বর্তমানে রয়েছে একাধিক বড় হাসপাতাল, মেডিকেল ও নার্সিং কলেজ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
- 📌 মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, তেজগাঁও ও ধানমন্ডির মতো এলাকার সংযোগবিন্দুতে সচিবালয় স্থাপনের ফলে শহরের হৃৎপিণ্ডে নতুন করে যানজটের কেন্দ্র সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- 📌 দেশের পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন, বলেছেন এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর পরিকল্পনার মানদণ্ড পূরণ করে না।
📰 বিস্তারিত
সরকারের প্রস্তাবিত সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের মূল প্রশ্ন হলো, এটি কি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে জনসাধারণের কাছে আরও কাছাকাছি আনবে অথবা ক্ষমতার কেন্দ্রকে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করবে মাত্র? এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিষয়টিকে আর নিছক আলোচনার স্তরে রাখে না।
শেরে বাংলা নগর পরিকল্পিত হয়েছিল আইয়ুব খানের আমলে পাকিস্তানের ‘দ্বিতীয় রাজধানী’ হিসেবে। লুই কানের নকশায় সংসদ ভবন সেই পরিকল্পনারই ফসল। সেই পরিকল্পনার পেছনে অন্তত একটি যুক্তি ছিল—ঘনবসতির বাইরে খোলা জমিতে প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়া। কিন্তু বর্তমানে এই এলাকাটি পুরোপুরি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রস্তাবিত স্থানের আশপাশে রয়েছে একাধিক বড় হাসপাতাল, মেডিকেল ও নার্সিং কলেজ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই এলাকাটি মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, তেজগাঁও ও ধানমন্ডির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সংযোগবিন্দু। সচিবালয় স্থাপনের ফলে শহরের হৃৎপিণ্ডে নতুন করে একটি যানজটের কেন্দ্র সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখানে হাসপাতালমুখী অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থীদের চলাচল, সম্মেলনের প্রটোকল এবং সচিবালয়ের নিরাপত্তাবেষ্টনী সব মিলে একই মোড়ে এসে মিলবে।
এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে দেশের পরিকল্পনাবিদদের পেশাজীবী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর পরিকল্পনার ন্যূনতম মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত টিকে না। তারা মনে করেন, এটি পুরাতন ভুলের পুনরাবৃত্তি এবং সমস্যা তৈরি করে তারপর সমাধানের জন্য আরেকটি ব্যয়বহুল প্রকল্পের দিকে নিয়ে যাবে।
"এই এলাকাটি মেলার চাপ সামলাতে পারেনি, তাহলে সারা বছর হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী, দর্শনার্থী আর সরকারি গাড়িবহরের চাপ কীভাবে সামলানো হবে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরে বাংলা নগর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইয়ুব খান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!