📌 কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ১৩টি কৃষি প্রকল্পের পরিচালক পদে দ্রুত বদল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই পদবদল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কৃষিমন্ত্রী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান পরিচালকদের মধ্যে অনেকেই সাবেক সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত
কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) একসঙ্গে ১৩টি কৃষি প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পদে দ্রুত বদল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই পদবদল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান পরিচালকদের মধ্যে অনেকেই সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত। এই পদবদল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৩টি প্রকল্পের পিডি পদে বদল** — ডিএইয়ের ১১টি ও বিএডিসির ২টি প্রকল্পের পরিচালক পদে বদল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- 📌 **সাবেক সরকারের পিডিদের বদল** — ১১টি প্রকল্পের মধ্যে ৭টি প্রকল্পের পরিচালক সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত।
- 📌 **কৃষিমন্ত্রী সন্দেহ প্রকাশ** — মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, একসঙ্গে এত প্রকল্প পরিচালকের পদে বদল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 **বিরোধিতার সৃষ্টি** — বর্তমান পরিচালকদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট অর্থের বিনিময়ে পিডি বদল করতে চায়।
- 📌 **বিএনপি সংগঠনের জড়িত** — অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) ও কৃষক দলের নেতাদের সাথে শীর্ষ কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত ২০ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় ১৩টি প্রকল্পের বর্তমান পরিচালকদের পদ থেকে বাদ দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই পদবদল নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সন্দেহ প্রকাশ করে কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক পদ এখনো সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা দখল করে রেখেছেন। তাঁরা নতুন সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছেন। তাই দ্রুত তাদের বদল করতে হবে।”
কৃষি সচিব মো. সেলিম খানকে এই বিষয়ে জানতে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ডিএইয়ের ১১টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি প্রকল্পের পরিচালক সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত। এদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মোহাম্মদ আব্দুল কায়ুম মজুমদার, রংপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের শেখ আব্দুল্লাহ ওয়াহেদ, পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ এবং কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রকল্পের রাশেদ হাসনাত। অন্যদিকে, চারটি প্রকল্পে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পরে পিডি নিয়োগ করা হয়েছে।
বিএডিসির দুটি প্রকল্পেও পিডি বদলের প্রস্তাব করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সেচ প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক নুরুল ইসলাম এবং বীজ উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক ইব্রাহিম খলিল। নতুন পরিচালক হিসেবে প্রস্তাবিত নামের মধ্যে রয়েছে বিএডিসির রাঙামাটি সেচ সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাহেদ এবং বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগের ব্যবস্থাপক আল মামুন মেহেদী হাসান।
"কৃষির উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক পদ এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দখল করে রেখেছেন। তাঁরা নতুন সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তাই অতি দ্রুত ফ্যাসিস্ট পিডিদের বদল করতে হবে।"
বর্তমান পরিচালকদের দাবি, ডিএই ও মন্ত্রণালয়ের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট অর্থের বিনিময়ে পিডি বদল করতে চায়। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির কৃষিবিদদের সংগঠন অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) ও কৃষক দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পিডিদের বিষয়ে ডিএই প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (কৃষিমন্ত্রী), মোহাম্মদ আব্দুল কায়ুম মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ ওয়াহেদ, আবুল কালাম আজাদ, রাশেদ হাসনাত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩টি প্রকল্প, ১১টি ডিএই প্রকল্প, ২টি বিএডিসি প্রকল্প
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!