📌 মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে সরকারের ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগের আদালত বহাল রেখেছে। এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ
আদালতের সিদ্ধান্তে সরকারের ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে সরকারের জোরদার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রোববার (৪ অক্টোবর) আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৯ জুলাই জারি করা লাইসেন্স প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন কার্যকর হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন
- 📌 মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল
- 📌 ১৯ জুলাই জারি করা লাইসেন্স প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন কার্যকর হয়ে পড়েছে
- 📌 এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ
- 📌 ঢাকা-২০, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদ্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহও লাইসেন্স প্রত্যাহারের তালিকায় ছিল
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য মালয়েশিয়া। কিন্তু অবৈধ কর্মসংস্থান ও অনিয়মের কারণে এই গন্তব্যস্থলটি একসময় ধসে পড়েছিল। এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ১৯ জুলাই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয়। এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা করা হয়েছিল।
এই প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি রিট দায়ের করে। ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে এই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে। এরপর আরও ১১টি এজেন্সি রিট দায়ের করে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেও আপিল বিভাগের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্সের শর্ত অনুসারে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন-২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন-২০২৩ এবং অন্যান্য আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে লাইসেন্স বাতিল করা এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।
"বাংলাদেশের মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল হচ্ছে মালয়েশিয়া।...দেশের মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে নির্ধারিত ফিসের বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজ, ভুয়া ভিসা দেওয়া—এ ধরনের নানা রকম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার একেবারে ধসে পড়েছিল।...যারা এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মামলা করা হয়।" — অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সি, ১৯ জুলাই, ১৫ সেপ্টেম্বর, ৩০ সেপ্টেম্বর, ১১টি এজেন্সি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!