📌 ৮২ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত ৮টি শান্তিনিবাসে বর্তমানে কোনো প্রবীণ বাসিন্দা নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভবনগুলো তিন বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ায় জনবল নিয়োগের অভাব এবং বাসস্থান চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আবাসন খালি পড়ে যায়
বাংলাদেশে ৮২ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত ৮টি শান্তিনিবাসে বর্তমানে কোনো প্রবীণ বাসিন্দা নেই। এই ভবনগুলোতে প্রবীণদের জন্য আধুনিক সুবিধাসমূহ থাকলেও, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শান্তিনিবাসগুলো নির্মাণের পর থেকে জনবল নিয়োগের অভাব এবং বাসস্থান চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে প্রকল্প ব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮২ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত ৮টি শান্তিনিবাসে বর্তমানে কোনো প্রবীণ বাসিন্দা নেই
- 📌 প্রতিটি শান্তিনিবাসে ২৫ জন প্রবীণ বাস করতে পারতেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বাসিন্দা নেই
- 📌 গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ ও নোয়াখালীতে শুধু নারী প্রবীণদের জন্য শান্তিনিবাস রয়েছে
- 📌 ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালে শুধু পুরুষ প্রবীণদের জন্য শান্তিনিবাস রয়েছে
- 📌 প্রতিটি শান্তিনিবাসে লিফট, স্বাস্থ্যসেবা কর্নার, বিনোদন ও প্রশিক্ষণ সুবিধা রয়েছে
- 📌 প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ায় ২০২২ সালের জুনের পরিবর্তে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়
- 📌 সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখেরও বেশি
- 📌 শান্তিনিবাস প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর
📰 বিস্তারিত
দেশের আটটি শহরে নির্মিত আটটি শান্তিনিবাসে বর্তমানে কোনো প্রবীণ বাসিন্দা নেই। এই ভবনগুলোতে প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রয়েছে, কিন্তু তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। প্রতিটি শান্তিনিবাসে ২৫ জন প্রবীণ বাস করতে পারতেন। গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ ও নোয়াখালীতে শুধু নারী প্রবীণদের জন্য শান্তিনিবাস রয়েছে, অন্যদিকে ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালে শুধু পুরুষ প্রবীণদের জন্য শান্তিনিবাস রয়েছে। প্রতিটি শান্তিনিবাসে লিফট, অভ্যর্থনা কক্ষ, দর্শনার্থী কক্ষ, বসার জায়গা, শয্যাকক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা কর্নার, বিনোদনের ব্যবস্থা, শরীরচর্চার কর্নার, প্রার্থনাকক্ষ, প্রশিক্ষণ কর্নার ও কফি কর্নারসহ আধুনিক সুবিধা রয়েছে।
২০২০ সালের জুলাই মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৭৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯১ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২ কোটি ৬৯ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আটটি শান্তিনিবাস উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ায় জনবল নিয়োগের অভাব এবং বাসস্থান চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আবাসন খালি পড়ে যায়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখেরও বেশি। এই প্রবীণদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩৬ লাখেরও বেশি, এরপর চট্টগ্রামে ২৭ লাখেরও বেশি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন শান্তিনিবাস প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রতিটি ভবন নির্মাণে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা করে খরচ হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, বরিশালের শান্তিনিবাস নির্মাণে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নিবাসটিকে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে।
"প্রতিটি নিবাস চালু করার জন্য যে জনবল নিয়োগের প্রয়োজন ছিল, তা এখনও হয়নি। এছাড়াও বাসস্থান চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপও সম্পন্ন হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ফয়সাল আলম (গণপূর্ত অধিদপ্তর, বরিশাল কার্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮২ কোটি টাকা (বিনিয়োগ), ৮টি শান্তিনিবাস, ২৫ জন প্রবীণ (প্রতিটি নিবাসে), ৬০ বছর (বয়স সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!