📌 রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে বাড়ির পুকুরে ফেলে দেওয়া পাঁচটি ডিমের মধ্যে একটি থেকে জন্ম নেওয়া মোরগ 'চুচু' এক বছর বয়স পূর্ণ করেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন চুচুকে তাদের পরিবারের একজন হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তার জন্মদিন উদযাপন করেছে
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামের একটি পরিবারে এক বছর বয়স পূর্ণ করেছে এক অনন্য মোরগ। এই মোরগের নাম 'চুচু'। এর জন্মের গল্প শুরু হয়েছিল বাড়ির পুকুরে ফেলে দেওয়া পাঁচটি ডিমের মধ্যে একটি থেকে। গতকাল রোববার চুচুর জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের দ্বারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাড়ির পুকুরে ফেলে দেওয়া পাঁচটি ডিমের মধ্যে একটি থেকে জন্ম নেওয়া মোরগ 'চুচু' এক বছর বয়স পূর্ণ করেছে
- 📌 চুচু পরিবারের সদস্যদের সাথে এমন সখ্য গড়ে উঠেছে যে তারা তাকে তাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে
- 📌 চুচুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয় এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘিরে আনন্দ উদযাপন করেন
- 📌 চুচুকে বাড়িতে একটি কাঠের ঘর তৈরি করা হয়েছে এবং সে সেখানে ঘুমায়
- 📌 চুচু মানুষের সঙ্গে খুবই সখ্য এবং তার নাম ডাকলে সে সাড়া দেয় এবং ছুটে আসে
📰 বিস্তারিত
বাড়ির পাশের মজা পুকুরে ভাসছিল পাঁচটি ডিম। ছোট্ট শিশু নিশাত শবনম খেলার ছলে কাঠি দিয়ে ডিমগুলো বাড়িতে নিয়ে আসেন। ডিমগুলো ভাঙতে গিয়ে একটির ভেতর পাওয়া যায় জীবিত ছানা। তখনো তার চোখ ফোটেনি। বাড়ির লোকজন ছানাটির যত্ন নিতে শুরু করেন। কিছুদিন পর সে ‘চু চু’ শব্দ করতে লাগল এবং তার নাম হয় ‘চুচু’। পরে দেখা যায়, ছানাটি আসলে মোরগ। তবে চুচু অন্য মোরগের মতো নয়। বাড়ির কেউ নাম ধরে ডাকলেই সে সাড়া দেয় এবং মানুষের সঙ্গে তার সখ্য পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে যায়।
চুচুর এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার উপলক্ষে তার জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছিল রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামের আবদুল হাদীর বাড়িতে। কেক কাটা হয়েছিল এবং কেকের টুকরা চুচু খেয়েছে। নিশাত এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়েন এবং তার বড় বোন সুজানা শবনম সম্প্রতি স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। চুচুর দেখভালের মূল দায়িত্ব সুজানার। বাড়িতে কাঠের ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে চুচুর জন্য।
সুজানা জানান, ডিম ভেঙে জীবিত ছানাটি পাওয়া গেলে দ্রুত তার মুখে পানি দেওয়া হয়। চোখ না ফোটা পর্যন্ত তুলার মধ্যে রেখে চুচুর যত্ন নেওয়া হয়। পরে পানি মিশিয়ে ফিড খাওয়ানো শুরু হয়। নিজের হাতে খাওয়ানোর কারণে চুচুর সঙ্গে সুজানার সখ্য গড়ে ওঠে। শুরুতে চুচু সুজানার সঙ্গে ঘুরে বেড়াত এবং বিছানায় তাঁদের পাশেই ঘুমাত। পরে বয়স বাড়লে তার জন্য কাঠের ঘর তৈরি করা হয়। রাতে সে সেই ঘরে ঘুমায়। ডাক দিলেই ভেতর থেকে সাড়া দেয়।
"চুচু যত দিন বাঁচবে, এ বাড়িতেই থাকবে। এত আদরের মোরগকে জবাই করতে পারব না, বিক্রিও করব না। চুচু এখন আমাদের পরিবারের একজন সদস্য।"
চুচুর সঙ্গে ‘মোরগলড়াই’ খেলেন বাড়ির লোকজন। মুখের সামনে পা এগিয়ে দিলেই সে ঘাড়ের পালক ফুলিয়ে আক্রমণ করতে আসে। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্বজনদের আনাগোনাও ছিল। সুজানার চাচাতো বোন মেহেরুন্নেসা কেক নিয়ে এসেছিলেন। তিনি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। কেক কাটার সময় চুচুকে সুজানার কোলে বসানো হয়। সবাই একসঙ্গে বললেন, ‘হ্যাপি বার্থডে, চুচু’। কেকের টুকরা চুচুর মুখের কাছে নিতেই সে খেতে শুরু করল। সেই দৃশ্য দেখে সবাই করতালি দিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রাম, আবদুল হাদীর বাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিশাত শবনম, সুজানা শবনম, আবদুল হাদী, মেহেরুল্লাহ, মেহেরুন্নেসা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টি ডিম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!