📌 জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে একাকীতায় ভুগছিলেন একজন ছেলে। তার জীবন পরিবর্তন করে দিলো একজন সাদা পাগড়ি ও সাইকেলে আসা পেপার মামা আসাদউল্লাহ। তার সালাম, সময়ানুবর্তিতা ও ভদ্র আচরণ পরিবারের একাকিত্ব ভাঙে এবং এক দীর্ঘ ১৭ বছরের বন্ধুত্ব গড়ে তোলে
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে একাকীতায় ভুগছিলেন একজন ছেলে। তার জীবন পরিবর্তন করে দিলো একজন সাদা পাগড়ি ও সাইকেলে আসা পেপার মামা। সেই পেপার মামা আসাদউল্লাহর সালাম, সময়ানুবর্তিতা ও ভদ্র আচরণ পরিবারের একাকিত্ব ভাঙে এবং এক দীর্ঘ ১৭ বছরের বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৭ বছর ধরে** সকাল ৮.২০ থেকে ৮.৩০ মিনিটের মধ্যে নিয়মিত পেপার দিতেন আসাদউল্লাহ হুজুর, যিনি সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও সাদা পাগড়ি পরতেন এবং কালো সাইকেলে আসতেন।
- 📌 **সালামের মাধ্যমে** প্রথমে শুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দিতেন তিনি, যা পরিবারের সদস্যদের আকৃষ্ট করত।
- 📌 **জন্ডিসে আক্রান্ত** হয়ে একাকীতায় ভুগছিলেন লেখক, যিনি স্কুলে যেতে পারতেন না এবং বন্ধুদের সাথে দেখা হতো না।
- 📌 **আম্মু** পেপার মামাকে "মামা" বলে ডাকতেন পরিবার, আর ছোটবোন ন্যান্সিকে "পেপার মামা" বলে ডাকতেন।
- 📌 **২০০ টাকা** দিয়েছিলেন পেপার মামা লেখকের ছোটবোনকে কলম কিনতে, যখন সে এসএসসি দেয়।
- 📌 **২০২০ সালের শেষে** মারা যান আসাদউল্লাহ, যিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে পেপার দিয়েছিলেন।
📰 বিস্তারিত
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে লেখক ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়তে থাকায় রোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় পরিবার তাকে অন্যদের কাছ থেকে দূরে রাখত। পাড়ার এক পাগলাটে ডাক্তারের পরামর্শে বন্ধুদের সাথে দেখা হতো না, এমনকি একমাত্র ছোটবোনটিকেও কাছে আসতে দিত না। ভয়ংকর একাকিত্বের মধ্যে কাটত দিনগুলো। একদিন আম্মু বলেন, ‘তোমার একাকিত্ব নিরসনে কিছু ব্যবস্থা করব’। তখনই আসেন পেপার মামা আসাদউল্লাহ।
আসাদউল্লাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কাজ করতেন এবং নিজের লাইব্রেরি ছিল। তিনি সকাল ৮.২০ থেকে ৮.৩০ মিনিটের মধ্যে নিয়মিত পেপার দিতেন। গেট খুললে প্রথমে শুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দিতেন তিনি। লেখকের পরিবার তাকে "মামা" বলে ডাকত। পেপার নেওয়ার সময় ছোটবোন ন্যান্সি পেপার মামার সঙ্গে টুকটাক গল্প করতেন। পেপার মামা তাকে ডান হাতে কিছু নেওয়ার অভ্যাস শিখিয়েছিলেন।
আসাদউল্লাহর সময়ানুবর্তিতা ও ভদ্র আচরণ পরিবারের সদস্যদের আকৃষ্ট করত। তিনি সব সময় "আপনি" করে বলতেন। পেপার মামা পরিবারের সাথে বিয়ের দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং তাঁর ছেলে হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন। সবচেয়ে মুগ্ধ করেছিল সব সময় সবার আগে সালাম জানিয়ে।
"আম্মু বলতেন, তিনি গরম পেপার ছাড়া পড়তে পারেন না। আমি আর ছোটবোন ন্যান্সি কার্টুন পড়তাম।" — লেখক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লেখকের বাসভবন (সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করা হয়নি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদউল্লাহ হুজুর (পেপার মামা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর (পেপার দানের সময়কাল), ২০০ টাকা (কলম কিনতে দেওয়া), ৮.২০-৮.৩০ (পেপার দানের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!