📌 গোপালগঞ্জের এক ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও মায়ের স্বপ্ন পূরণের পথে শেষ রাতে মা হারিয়ে ফেলেন। টিউশনির বেতন দিয়ে মায়ের জামা কিনতে পারেননি, বরং সেই টাকায় মায়ের কাফনের কাপড় কিনে দিতে হয়
গোপালগঞ্জের এক ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে শেষ রাতে মায়ের সঙ্গে শেষ রাতের খাবার খেয়ে মা হারিয়ে ফেলেছেন। মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও, সেই স্বপ্নের মা আর জামা কিনতে পারেননি। বরং টিউশনির বেতন দিয়ে মায়ের কাফনের কাপড় কিনে দিতে হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৪ সালের ১৩ এপ্রিল জন্মগ্রহণকারী ছেলের ডান হাত জন্মগত জটিলতায় ভেঙে যায়, মা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করান
- 📌 গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও মায়ের স্বপ্নের জন্য নিজ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেন
- 📌 টিউশনির বেতন দিয়ে মায়ের জামা কিনতে পারেননি, বরং সেই টাকায় মায়ের কাফনের কাপড় কিনে দিতে হয়
- 📌 ৬ অক্টোবর রাতে ফিরে দেখেন মা রাত ১১-১২ টা পর্যন্ত না খেয়ে অপেক্ষা করছিলেন
- 📌 মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শেষ রাতে মায়ের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
গোপালগঞ্জের রাস্তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস গেলে মা জাহানারা খানম ঝর্না স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তাঁর ছেলেও এই বাসে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও, মায়ের স্বপ্নের জন্য নিজের জেলার বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া ছেলের জীবনের প্রথম উপার্জন ছিল টিউশনি। প্রথম উপার্জনের টাকা মায়ের হাতে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। তারপর ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুই খরচ কর’।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে টিউশনির বেতন দিয়ে মায়ের জন্য এক সেট বাসায় পরার জামা কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের ১ তারিখে ফুফা অসুস্থ থাকায় ঢাকায় যেতে হয়। ৬ অক্টোবর রাতে বাড়িতে ফিরে দেখেন, মা রাত ১১-১২ টা পর্যন্ত না খেয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেদিন একসঙ্গে ভাত খেয়েছিলেন। কে জানত, সেটাই হবে মায়ের সঙ্গে তাঁর শেষ রাতের খাবার। পরদিন ভোরে মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই টাকাতেই মায়ের কাফনের কাপড় কিনে দিতে হয়।
মায়ের স্বপ্ন পূরণের পথে শেষ রাতে হারিয়ে ফেলা মা। মাকে অনেক কিছু দেওয়ার স্বপ্ন ছিল, অনেক কিছু বলা হয়নি। আজ শুধু তাঁর স্বপ্নগুলোকে নিজের জীবনের পথ করে এগিয়ে যেতে চান।
"আল্লাহ, আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোপালগঞ্জ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোবিপ্রবি বন্ধুসভা (লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ এপ্রিল (জন্ম তারিখ), ৬ অক্টোবর (মা অসুস্থ হয়ে পড়েন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!