📌 মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের ঐতিহ্যবাহী ঝালমুড়ি বিক্রেতা আলী চাচাকে ৩০ বছর পর আবার দেখতে পান লেখক আশফাকুল মনির। শৈশবের সেই স্বাদ ও স্মৃতি ফিরিয়ে এনে দিয়েছে সেই অলৌকিক ঝালমুড়ি
মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের চত্বরে একসময় ছিলো আলী চাচার ঝালমুড়ির দোকান — সেই দোকানটি ৩০ বছর পর আবার লেখক আশফাকুল মনিরের জীবনে ফিরে এলো। শৈশবের সেই অদ্ভুত স্বাদ ও স্মৃতির টানকে তিনি আবারও সেই ঝালমুড়ির মুখোমুখি হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৯৫ সালে মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের চত্বরে আলী চাচার ঝালমুড়ি ছিলো শৈশবের প্রিয় খাবার — তার একসঙ্গে মেশানো ঝালের স্বাদ ছিলো অনন্য
- 📌 ৩০ বছর পর লেখক আশফাকুল মনিরের সপ্তম শ্রেণির ছেলেকে নিয়ে পূরবীর দিকে যাওয়ার সময় তিনি আবারও আলী চাচাকে দেখতে পান — সেই একই হাতের ভঙ্গি, সেই একই টিনের বাটি
- 📌 আলী চাচা লেখককে 'বাবা' ডাকার মাধ্যমে শৈশবের সেই স্নেহময় সম্পর্ক ফিরিয়ে এনে দিয়েছিলেন — "মনে থাকবে না কেন, বাবা?"
- 📌 শৈশবের সেই মিরপুরের জমজমাট পরিবেশ আর পূরবী সিনেমা হলের চত্বরের স্মৃতি ফিরে এলো ঝালমুড়ির এক কামড়ে
- 📌 লেখক বর্তমানে তড়িৎ প্রকৌশলী হলেও শৈশবের সেই স্মৃতির টানে তিনি আবারও আলী চাচার ঝালমুড়ি খেতে চান
📰 বিস্তারিত
১৯৯৫ সালের মিরপুর ছিলো আজকের মতো চঞ্চল না — কিন্তু সেখানে পূরবী সিনেমা হলের চত্বরে ছিলো একটা বিশেষত্ব। চা, শিঙাড়া, সমুচা আর বাদামের মেলার মাঝে আলী চাচার ঝালমুড়ির দোকান ছিলো একদম আলাদা। তার টিনের বাটিতে মুড়ি মাখার কায়দা ছিলো এমন একটা স্বাদ যা অন্য কেউই তৈরি করতে পারতো না। লেখক আশফাকুল মনির তখন ক্লাস সিক্সে পড়তেন, কিন্তু ঝালমুড়ির স্বাদ চিনতেন।
বদলে যাওয়া মিরপুরের সাথে সাথে পূরবী সিনেমা হলের চত্বরাও একসময় আড়ালে চলে গেল। নতুন সিনেমা পোস্টার, টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়ানো মানুষ আর আলী চাচার দোকান আর দেখা যেত না। লেখক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিজীবনে প্রবেশ করলেন, এবং বাবা হয়ে গেলেন। কিন্তু জীবনের একটা পর্যায়ে তিনি আবারও শৈশবের স্মৃতির টানে পূরবীর দিকে পা বাড়ালেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে এক অলস দুপুরে সপ্তম শ্রেণির ছেলেকে নিয়ে পূরবীর দিকে যাওয়ার সময় তিনি আলী চাচাকে আবারও দেখতে পান। আশির কোঠা পার করা শরীর, সাদা দাড়ি — কিন্তু সেই একই হাতের ভঙ্গি, সেই একই ঝালমুড়ি মাখার কায়দা। আলী চাচা লেখককে 'বাবা' ডাকার মাধ্যমে শৈশবের সেই স্নেহময় সম্পর্ক ফিরিয়ে এনে দিলেন।
"মনে থাকবে না কেন, বাবা?"
ছেলে প্রথম ঝালমুড়ি খেয়ে বললেন, 'বাবা, সত্যি অনেক মজা!' সেই মুহূর্তে লেখকের চোখের সামনে ফিরে এলো সেই আগের মিরপুর — সেই পূরবী সিনেমা হল, টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষমাণ মানুষ আর সামনের চত্বরে সেই আলী চাচা। চোখের কোণে পানি জমে উঠলেও তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। বাড়ি ফেরার পথে গাড়িতে বসে ছেলে আবার বলল, 'কাল আবার আলী চাচার কাছ থেকে ঝালমুড়ি খাব'। লেখক শুধু হেসে বললেন, 'হ্যাঁ বাবা, খাবে'।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, ঢাকা (পূরবী সিনেমা হলের চত্বর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী চাচা, লেখক আশফাকুল মনির, ছেলে (সপ্তম শ্রেণি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ বছর পর আবার দেখা, ১৯৯৫ সাল, ক্লাস সিক্স, সপ্তম শ্রেণি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!