📌 মাগুরার মহম্মদপুরের সেলুন মালিক রাজু আহমেদ অশিক্ষিত বলে অপমানের মুখোমুখি হলেও নিজের সেলুনে বইয়ের পাঠাগার গড়ে তোলেন। বর্তমানে সেখানে শতাধিক বই রয়েছে এবং গ্রাহকরা অপেক্ষার সময় বই পড়তে পারেন। এছাড়াও তিনি এতিম শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেন
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের শিকদারের মোড়ে অবস্থিত একটি সাধারণ সেলুন থেকে শুরু করে বর্তমানে এটি একটি ছোট্ট পাঠাগারের মতো হয়ে উঠেছে। সেলুন মালিক মোহাম্মদ রাজু আহমেদের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি গভীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একসময় একজন শিক্ষিত ব্যক্তি তাঁকে ‘অশিক্ষিত’ বলে অপমানিত করার কথা তাঁকে আজও কষ্ট দেয়। সেই অপমানকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি নিজের সেলুনের নাম দিয়েছেন ‘অশিক্ষিত রাজু সেলুন জোন’ এবং সেলুনটিকে রূপান্তরিত করেছেন একটি বইয়ের পাঠাগারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘অশিক্ষিত রাজু সেলুন জোন’ নামক সেলুনে বর্তমানে শতাধিক বই রয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা অপেক্ষার সময় বই পড়তে পারেন
- 📌 রাজু আহমেদের পড়াশোনা নবম শ্রেণী পর্যন্ত চলেছিল, কিন্তু তিনি বই পড়ার প্রতি আগ্রহ হারাননি
- 📌 ১০ বছর ধরে সেলুনের কাজে যুক্ত রাজু প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন সেলুনে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন
- 📌 তিনি এতিম শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চুল কাটার ব্যবস্থা রেখেছেন এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ছাড় দেন
- 📌 গ্রাহকদের মতে, সেলুনে বই পড়ার পরিবেশ খুবই আনন্দদায়ক এবং তারা নিয়মিত আসেন
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদ রাজু আহমেদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল যখন একজন শিক্ষিত ব্যক্তি তাঁকে ‘তুমি নাপিত, তুমি অশিক্ষিত, তুমি আমার সঙ্গে কী কথা বলবা’ বলে অপমানিত করেছিলেন। সেই অপমানের কথাগুলো তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি নিজের সেলুনের নাম দিয়েছিলেন ‘অশিক্ষিত রাজু সেলুন জোন’।
রাজু আহমেদের সেলুনটি বাইরে থেকে দেখতে আর দশটি সাধারণ দোকানের মতোই। তবে ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে বইয়ের সংগ্রহ, দেয়ালজুড়ে কবিতার পঙ্ক্তি ও অনুপ্রেরণামূলক লেখা। শুরুতে মাত্র তিনটি বই থাকলেও এখন তাঁর সংগ্রহে রয়েছে শতাধিক বই। সেলুনে চুল কাটার অপেক্ষায় থাকা মানুষ সেখানে বসেই পড়তে পারছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাসসহ নানা ধরনের বই।
রাজুর স্বপ্ন, একদিন তাঁর সেলুনটি আরও বড় ও পূর্ণাঙ্গ পাঠাগারে পরিণত হবে। তিনি বলেন, ‘আমিও একজন এতিম। তাই এতিম শিশুদের বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি চাই, কাজের পাশাপাশি আমার দোকানে একটি সুন্দর ও বড় পাঠাগার গড়ে উঠুক। মানুষের যে সময়টুকু সেলুনে অপেক্ষা করে কাটে, সেটি যেন জ্ঞান অর্জনে কাজে লাগে।’
"আসলে মানুষ কখনোই অশিক্ষিত হতে চায় না। বেঁচে থাকার তাগিদে অল্প বয়সেই উপার্জনের জন্য কাজে নেমে পড়তে হয়। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি অনেক মানুষের সামনে আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাপিত, তুমি অশিক্ষিত, তুমি আমার সঙ্গে কী কথা বলবা?’ কথাটি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল। সেই কষ্ট থেকেই আমার সেলুনের নাম দিয়েছি ‘অশিক্ষিত রাজু সেলুন জোন’।"
গ্রাহকদের মতে, সেলুনে বই পড়ার পরিবেশ খুবই আনন্দদায়ক। মো. রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘রাজু ভাইয়ের এখানে দীর্ঘদিন ধরে চুল কাটাই। অনেক সময় সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তখন বাজারে ঘোরাঘুরি বা ফোন না দেখে সেলুনে বসে বই পড়ি। এখানে বই পড়ার পরিবেশটা ভালো লাগে। এ কারণেই রাজু ভাইয়ের সেলুনে আসি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহম্মদপুর উপজেলা, বালিদিয়া ইউনিয়ন, শিকদারের মোড়, মাগুরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, মো. রিয়াজ আহম্মেদ, মফিজুর রহমান মিনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (সেলুনের অভিজ্ঞতা), শতাধিক বই (পাঠাগারের সংগ্রহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!