📌 ৭৫ বছর বয়সী কেরলের রাজাপ্পন পোলিওর কারণে হাঁটতে অক্ষম হলেও জলাশয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে নিজের সংসার চালাচ্ছেন। প্রতিদিন ১৭ ঘণ্টা কাজ করে সংগ্রহকৃত বর্জ্য বিক্রি করে মাত্র ১২ টাকা প্রতি কেজি আয় করেন। তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাইওয়ান সরকার
৭৫ বছর বয়সী কেরলের কোট্টায়াম জেলার মঞ্জনিক্কারা গ্রামের বাসিন্দা এন এস রাজাপ্পন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পরিবেশ রক্ষায় উৎসর্গ করেছেন। পোলিওর কারণে পাঁচ বছর বয়সেই হাঁটুর নীচের অংশের কর্মক্ষমতা হারানোর পরেও তিনি নিজের দু’হাতের ওপর ভর করে ভেম্বানাদ হ্রদ ও মীনচিল নদী থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের কাজে নিবেদিত আছেন। প্রতিদিন ভোরবেলা থেকেই তিনি নৌকায় চেপে বের হন এবং জলে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭৫ বছর বয়সী রাজাপ্পন** পোলিওর কারণে হাঁটতে অক্ষম হলেও জলাশয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে নিজের সংসার চালাচ্ছেন।
- 📌 **প্রতিদিন ১৭ ঘণ্টা কাজ** করে তিনি জলে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি বিক্রি করে মাত্র **১২ টাকা প্রতি কেজি** আয় করেন।
- 📌 **২০১৮ সালের বন্যায় বাড়ি ধ্বংস** হওয়ার পর তিনি নিজের নৌকাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর খাদ্য সরবরাহ করেছিলেন।
- 📌 **কোভিডের সময়ে** পর্যটক কমে যাওয়ায় প্লাস্টিকের পরিমাণ কমলেও তিনি জলাশয় পরিষ্কার রাখার কাজে আনন্দ পান।
- 📌 **২০২৫ সালে** তাঁর কাজের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী সাহায্য পান। তিনি পেয়েছেন **মোটরচালিত হুইলচেয়ার** এবং **মোটরবোট**।
- 📌 **প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী** এবং **তাইওয়ান সরকার** তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন।
- 📌 **৬ বছর ধরে** তিনি কোনো ছুটি না নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন। তাঁর স্বপ্ন হলো মাথার উপর একটু ছাদ এবং সুখে থাকা।
📰 বিস্তারিত
৭৫ বছর বয়সী রাজাপ্পন কেরলের কোট্টায়াম জেলার মঞ্জনিক্কারা গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ বছর বয়সেই পোলিওর কারণে হাঁটুর নীচের অংশের কর্মক্ষমতা হারানোর পরেও তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পরিবেশ রক্ষায় উৎসর্গ করেছেন। তিনি নিজের দু’হাতের ওপর ভর করে ভেম্বানাদ হ্রদ ও মীনচিল নদী থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের কাজে নিবেদিত আছেন। প্রতিদিন ভোরবেলা থেকেই তিনি নৌকায় চেপে বের হন এবং জলে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। সারাদিন ধরে সংগৃহীত বর্জ্য পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখেন তিনি।
২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তাঁর বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। জমানো সমস্ত আবর্জনা জলে ভেসে যাওয়ায় তিনি সাময়িক হতাশ হয়ে পড়েন। সেই সময় কারও কাছে সাহায্য না চেয়ে তিনি বেশ কয়েক সপ্তাহ নিজের নৌকাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভগ্নপ্রায় বাড়িতে একা থাকা রাজাপ্পনের খাদ্যের জোগান দেন তাঁর বোন এবং স্থানীয় কিছু সহৃদয় বাসিন্দা। কোভিডের সময়ে পর্যটক কমে যাওয়ায় জলাশয়ে প্লাস্টিকের পরিমাণ কমে গিয়েছিল। এতে তাঁর আয় তলানিতে ঠেকলেও, হ্রদের জল পরিষ্কার থাকায় তিনি খুশি প্রকাশ করেন।
বছরখানেক আগে কোট্টায়ামের চিত্রগ্রাহক নন্দু কেএস তাঁর এই নিঃস্বার্থ কাজের একটি ছোট ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করলে তা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই রাতারাতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বহু মানুষ। তিনি উপহার পান নগদ অর্থ, একটি মোটরচালিত হুইলচেয়ার এবং তাঁর বহুদিনের স্বপ্নের একটি মোটরবোট। তাঁর এই নিঃস্বার্থ লড়াই দেশের সর্বোচ্চ স্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে সক্ষম রাজাপ্পনের এই নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাঁর কাজের প্রশংসা করে তাইওয়ান সরকারও।
"আমি শুধু মাথার উপর একটু ছাদ চাই এবং আমৃত্যু সেখানেই সুখে থাকতে চাই। পরিবেশ রক্ষায় আমার এই সরল জীবনদর্শন আমাকে আনন্দ দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কোট্টায়াম জেলা, মঞ্জনিক্কারা গ্রাম, কেরল, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এন এস রাজাপ্পন (৭৫ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ বছর বয়স, ১৭ ঘণ্টা কাজ, ১২ টাকা প্রতি কেজি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!