📌 সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক বাংলাদেশের শিরোপা জেতার প্রধান বাধা হলো গোলদাতাদের অভাব। সাবেক খেলোয়াড় রোকনুজ্জামান কাঞ্চন ও জাহিদ হাসান এমিলি বলেছেন, ২০০৩ সালের মতো স্ট্রাইকারদের জুটি গঠন ও প্রতিভাবানদের প্রশিক্ষণ দিলে সমস্যা সমাধান সম্ভব
৮ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাগতিক বাংলাদেশের শিরোপা জেতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো গোলদাতাদের অভাব। টমাস ডুলির অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের দলকে জয়ের জন্য গোলের প্রয়োজন, কিন্তু আক্রমণভাগে নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের ঘাটতি এখনো দূর হয়নি। সাবেক ফুটবলার রোকনুজ্জামান কাঞ্চন ও জাহিদ হাসান এমিলি এই সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৩ সালের সাফ শিরোপা জেতার সফল ফর্মুলা: রোকনুজ্জামান কাঞ্চন বলেছেন, ২০০৩ সালে আলফাজ আহমেদ ও তার জুটিতে গোল করার দক্ষতা ছিল। আলফাজ ছিলেন স্কিলফুল খেলোয়াড়, তিনি নিজের টেকনিক দিয়ে গোল করতেন, আর কাঞ্চন দৌড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেন। এই পার্থক্য ছিল তাদের জয়ের মূল কারণ।
- 📌 গোলদাতা তৈরি করতে হবে: কাঞ্চন বলেছেন, শুধু খেলোয়াড়দের কাছ থেকে গোল আশা করা যাবে না। ফুটবল ফেডারেশনকে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রতিটি জেলা থেকে ১০ জন করে খেলোয়াড় বাছাই করে একাডেমি গঠন করলে ভালো স্ট্রাইকার তৈরি হবে।
- 📌 ২০১০ সালের সাফ গেমসে ১৩ গোলের রেকর্ড: জাহিদ হাসান এমিলি উল্লেখ করেছেন, ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশ দল ১৩টি গোল করেছিল। এনামুল হক, মিঠুন চৌধুরী ও তৌহিদুল আলম সবুজসহ সকলেই স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করেছিলেন।
- 📌 বর্তমান দলের স্ট্রাইকারের ঘাটতি: বর্তমান বাংলাদেশ দলের স্বীকৃত স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে। শেখ মোরসালিন ও রাকিব হোসেন হলেও তারা স্বাভাবিক অর্থে স্ট্রাইকার নয়। একমাত্র মাহি খান আছে, কিন্তু তার চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
- 📌 সাফ জেতার জন্য গোলের প্রয়োজন: জাহিদ হাসান এমিলি বলেছেন, সাফ জেতার জন্য গোল করার বিকল্প নেই। যদি কোনো সেন্টারব্যাক বা পেছনের খেলোয়াড় গোল করতে পারে, তাও দলের জন্য লাভজনক হবে। তবে শেষ পর্যন্ত গোল করার দায়িত্বে থাকা স্ট্রাইকারদেরকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
সাবেক ফুটবলার রোকনুজ্জামান কাঞ্চন ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জেতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তখন দলের আক্রমণে আলফাজ আহমেদের মতো স্কিলফুল খেলোয়াড় এবং তার নিজের মতো রানিং প্লেয়ারের জুটি ছিল। আলফাজের টেকনিক ও তার দৌড়ের শক্তি মিলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখত। তিনি বলেছেন, “আমাদের খেলার ধরন ছিল আলাদা। আলফাজ ভাই স্কিল নিয়ে গোল করতেন, আমি দৌড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতাম। এই পার্থক্য ছিল আমাদের বোঝাপড়ার মূল কারণ।”
কাঞ্চন আরও বলেছেন, ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম গোলটি তারই করা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, গত ২৩ বছরে সাফের শিরোপা না জেতার পেছনে মূল সমস্যা হলো পরিকল্পনার অভাব। তিনি বলেছেন, “আমাদের দেশে প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই। ৬৪ জেলা থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করা সম্ভব। প্রতিটি জেলা থেকে ১০ জন করে খেলোয়াড় বাছাই করে একাডেমি গঠন করলে ভালো স্ট্রাইকার তৈরি হবে। ফুটবল ফেডারেশনকে ফুটবলকে প্রাধান্য দিতে হবে, ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে।”
জাহিদ হাসান এমিলি বলেছেন, সাফ জেতার জন্য গোল করার বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০০৩ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশ দল ১৩টি গোল করেছিল। তিনি বলেছেন, “সাফ জেতার জন্য স্ট্রাইকারদের গোল করার বিকল্প নেই। বর্তমান দলের স্বীকৃত স্ট্রাইকারের ঘাটতি রয়েছে। যদি কোনো সেন্টারব্যাক বা পেছনের খেলোয়াড় গোল করতে পারে, তাও দলের জন্য লাভজনক হবে। তবে গোল করার দায়িত্বে থাকা স্ট্রাইকারদেরকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।”
এমিলি আরও বলেছেন, রোনান সুলিভানের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি বলেছেন, “এই টুর্নামেন্টে অনেক গোলের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে গোলে পরিণত করবে কে? শেখ মোরসালিন ও রাকিব হোসেন ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু তারা স্বীকৃত স্ট্রাইকার নয়। একমাত্র মাহি খান আছে, তবে তার চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
"আমাদের দেশে প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই। ৬৪ জেলা থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করা সম্ভব। প্রতিটি জেলা থেকে ১০ জন করে খেলোয়াড় বাছাই করে একাডেমি গঠন করলে ভালো স্ট্রাইকার তৈরি হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (স্বাগতিক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রোকনুজ্জামান কাঞ্চন, জাহিদ হাসান এমিলি, আলফাজ আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক), ৫ গোল (সাফে সর্বোচ্চ গোল), ২৩ বছর (সাফ শিরোপা না জেতার সময়কাল), ৬৪ জেলা (বাংলাদেশ), ১০ জন (প্রতিটি জেলা থেকে খেলোয়াড় বাছাই), ১৩ গোল (২০১০ সালের এসএ গেমসে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!