📌 লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ী হয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট দিয়ে চিরদিনের বিদায় নিলেন। ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোলসহ তার মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে মাঠ ছাড়লেন তিনি
লিওনেল মেসি ফুটবলের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি হিসেবে চিরদিনের বিদায় নিলেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি গোল ও অ্যাসিস্ট দিয়ে মহাকাব্যিক বিদায়ের ইতি টানলেন। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ী হয়ে মেসি নিজের চেনা ছন্দে শেষ ম্যাচের স্মৃতি রেখে গেলেন। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স ছিল অপরিসীম আবেগ ও দক্ষতার সমন্বয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২৬তম গোলসহ বিদায়ী ম্যাচে** মেসি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট দিয়ে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করলেন বেনিনের বিপক্ষে।
- 📌 **মাঠে নেমে প্রথম ৩২ মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ** হলেও বিরতির পর মেসির নিখুঁত পাস থেকে দুটি গোল ও একটি পেনাল্টি গোল করে বিদায়ী ম্যাচে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন তিনি।
- 📌 **৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল** করে মেসি নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খোললেন।
- 📌 **ম্যাচের আগে ১০ নম্বর জার্সি মাঠে মেলে ধরা** হয় এবং ১০ মিনিট খেলা থামিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে মেসিকে সম্মান জানানো হয়।
- 📌 **২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার** শেষে মেসি বললেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’
📰 বিস্তারিত
বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে লিওনেল মেসির বিদায়ের আবহ ছিল অপরিসীম। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মেসির বিদায়ের জন্য স্টেডিয়ামে বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি মাঠে মেলে ধরা হয়। খেলা শুরু হওয়ার আগে ১০ মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে মেসিকে সম্মান জানানো হয়। গ্যালারিজুড়ে ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি গুঞ্জরিত হয়।
প্রথমার্ধে মেসি একাধিক সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি। ৭ মিনিটে দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলিতে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। তবে বিরতির পর দৃশ্যপট বদলে যায়।
বিরতির পর মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ৪৮তম মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর ৬০তম মিনিটে আবারও মেসির নিখুঁত পাস থেকে নিকো পাজ গোল করেন। এই দুটি গোলের মাধ্যমে মেসি সতীর্থদেরকে গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়ান। এর ১১ মিনিট পর বেনিনের ডিফেন্ডারের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি এবং ৭১তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন।
ম্যাচের আগে মেসি নিজের বিদায় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’ ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর কেটে গেছে ২১ বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ পথচলায় ছিল হতাশা, ব্যর্থতা, শিরোপার অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তাঁর বিদায় নিয়ে তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা। অবশেষে সেই বিদায়ও হলো তাঁর চেনা ছন্দে — গোল ও অ্যাসিস্টে।
"আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুয়েনস এইরেস, এস্তাদিও মনুমেন্টাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিওনেল মেসি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩-০ (গোলের ব্যবধান), ১২৬ (মেসির আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা), ১০ মিনিট (সম্মান জানানো), ৭১ (পেনাল্টি গোলের মিনিট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!