📌 বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালের আগে মেসি ও শিশু ইয়ামালের ২০০৭ সালের ক্যাম্প ন্যু ড্রেসিংরুমের ছবি ভাইরাল। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত তুলেছিলেন ইউনিসেফের লটারির অংশ হিসেবে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে আর্জেন্টিনা–স্পেন মুখোমুখি নিশ্চিত হওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে আবার ভাইরাল হয়েছে ২০০৭ সালের একটি ছবি — যেখানে ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন। সেই ৬ মাসের শিশুটি এখন স্পেনের তরুণ তারকা — আর মেসির সঙ্গে তার মাঠের তুলনাও হচ্ছে হরহামেশা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ছবি তোলা হয়েছিল ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু ড্রেসিংরুমে — ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে।
- 📌 ছবিতে মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, শিশু ইয়ামালের বয়স মাত্র ৬ মাস।
- 📌 আলোকচিত্রী: জোয়ান মনফোর্ত, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর ফ্রিল্যান্স ফটো সাংবাদিক।
- 📌 লটারির আয়োজন হয়েছিল স্পেনের মাতারো শহরে — ইয়ামালের পরিবার সেখানেই বসবাস করত।
- 📌 ইয়ামালের বাবা ইনস্টাগ্রামে ছবিটি পোস্ট করে লিখেছিলেন — "দুই কিংবদন্তির সূচনা"।
- 📌 স্পেনের সাবেক ফুটবলার জাভি হের্নান্দেজের মন্তব্য: ইয়ামাল চাইলে "আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর" ফুটবলে রাজত্ব করবেন।
📰 বিস্তারিত
এবারের বিশ্বকাপ আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ২০১০ সালের শিরোপাজয়ী স্পেন। এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে শুরু করেছে একটি ছবি, যেখানে মেসির কোলে একটি ছোটো শিশুকে দেখা যাচ্ছে — যিনি এখন স্পেন দলের তুখোড় খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল। ২০০৭ সালে, বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটের জন্য এই শিশুকে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি ততদিনে নিজের নাম তৈরি করতে শুরু করেছিলেন এবং পরে তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু আলোকচিত্রী তখনও জানতেন না যে, দেড় যুগ পরে ওই শিশুটিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোড়ন তুলবে।
ছবিতে পোজ দেওয়ার অংশ হিসেবে মেসি তখন গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন শিশু ইয়ামালকে। সেই শিশুটিই ১৬ বছর বয়সে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ আলোড়ন তোলে — ১৬ বছর ৩৬২ দিন বয়সে করা ওই গোল তাকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে। এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে, গত ১৩ই জুলাই সোমবার লামিন ইয়ামালের বয়স ১৯ বছর পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু এরই মধ্যে তাকে বিশ্বের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ড বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর ১৮ বছর বয়সে তিনি ব্যালন ডি'অরের রানার-আপ হয়েছিলেন।
মাঠে ইয়ামালের সামর্থ বোঝাতে মেসির সঙ্গে তুলনাও হচ্ছে হরহামেশা। মাঠের একজন নেতা যে অল্প বয়সেই পার্থক্য গড়ে দেয় — যেমনটা কেবল লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে বা রোনাল্ডো (নাজারিও)-র মধ্যে দেখা গেছে, সেটা লামিন ইয়ামালের মধ্যে ফুটে উঠেছে — এবং সে চাইলে "আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর" ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করবে — সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন স্পেন দলের সাবেক ফুটবলার জাভি হের্নান্দেজ।
📸 ছবির পেছনের গল্প
ছবিগুলো তুলেছিলেন জোয়ান মনফোর্ত, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। তিনি বিবিসি নিউজের জর্জ রাইটকে বলেছিলেন, এই ফটোশুটের আয়োজন হয়েছিল স্পেনের মাতারো শহরে ইউনিসেফের একটি লটারির মাধ্যমে, যেখানে লামিনের পরিবার বসবাস করত। "তারা ক্যাম্প ন্যুতে একজন বার্সা খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতে লটারিতে নাম লিখিয়েছিল। আর তারা লটারিতে জিতেছিল," মি. মনফোর্ত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন।
আলোকচিত্রী জানান, ছবি তোলার দায়িত্বটি খুব সহজ ছিল না — "মেসি বেশ অন্তর্মুখী একজন মানুষ, তিনি লাজুক"। "তিনি ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং হঠাৎ দেখলেন আরেকটি ড্রেসিংরুমে পানি ভরা একটি প্লাস্টিকের টব এবং তার মধ্যে একটি শিশু। বিষয়টি ছিল জটিল। প্রথম দিকে শিশুকে কীভাবে কোলে নিতে হয়, সেটিও তিনি জানতেন না।"
মেসির মতোই ইয়ামাল পরে বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন। সেখানে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী শুরুর একাদশের খেলোয়াড় ও গোলদাতা হয়েছেন, পাশাপাশি স্প্যানিশ লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও হয়েছেন। মি. মনফোর্ত ২০২৪ সালে বিবিসি নিউজকে বলেন, ছবিটি অনলাইনে ভাইরাল হতে শুরু করার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে ছবির শিশুটি ছিল ইয়ামাল।
"এমন একটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারা, যা এত বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, সত্যিই খুব রোমাঞ্চকর। সত্যি বলতে, এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি।" — জোয়ান মনফোর্ত, আলোকচিত্রী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- ছবি তোলার তারিখ: ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর
- স্থান: ক্যাম্প ন্যু ড্রেসিংরুম, বার্সেলোনা
- উপলক্ষ: ইউনিসেফের দাতব্য ক্যালেন্ডার ফটোশুট
- লটারির শহর: মাতারো, স্পেন
- আলোকচিত্রী: জোয়ান মনফোর্ত (AP ফ্রিল্যান্স)
- মেসির বয়স (তখন): ২০ বছর
- ইয়ামালের বয়স (তখন): ৬ মাস
- ইয়ামালের ইউরো ২০২৪ রেকর্ড: ১৬ বছর ৩৬২ দিন বয়সে গোল (সর্বকনিষ্ঠ)
- ইয়ামালের জন্মদিন: ১৩ জুলাই (বিশ্বকাপ চলাকালীন ১৯ পূর্ণ)
- ব্যালন ডি'অর ২০২৫: রানার-আপ (১৮ বছর বয়সে)
- প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, বিবিসি বাংলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!