📌 লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঐতিহাসিক রাতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলেন। ৩৮ বছর বয়সী ওতামেন্দি ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেন বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের প্রথম গোল দিয়ে। মেসির অনুরোধে তিনি এই বিশেষ ম্যাচে অংশ নেন এবং শেষ গোল করার আনন্দে ভরে যান
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঐতিহাসিক রাতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি বিদায় লেখা হয়েছে। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে মেসির মতোই আন্তর্জাতিক মাঠ থেকে বিদায় নেন আর্জেন্টিনার ৩৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। এই ম্যাচে তিনি নিজের শেষ ম্যাচের প্রথম গোলটি দিয়েছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৮ বছর বয়সী ওতামেন্দি বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের প্রথম গোল দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন।
- 📌 ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করে ওতামেন্দি বলেছেন, মেসির অনুরোধে তিনি এই বিশেষ ম্যাচে অংশ নেন।
- 📌 মেসির বিদায়ের দিন ওতামেন্দি মাঠে নামেন এবং শেষ গোল করার আনন্দে ভরে যান।
- 📌 ৪টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ওতামেন্দির ক্যারিয়ারে ২১টি ম্যাচ খেলেছেন, যা ডিয়েগো ম্যারাডোনার সমান।
- 📌 মেসির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ওতামেন্দি বলেছেন, মেসির সঙ্গে সময় কাটানো ছিল অসাধারণ এবং তিনি মেসিকে ধন্যবাদ জানান।
📰 বিস্তারিত
মনুমেন্তালে আলো ও গ্যালারির চোখ লিওনেল মেসির দিকে ছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে একই রাতে আরেকজনও শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন। নিকোলাস ওতামেন্দি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে মেসির মতোই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন এই ৩৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। ওতামেন্দি বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু লিওনেল স্কালোনি তাঁকে এই ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে শুধু বেনিন ম্যাচের জন্য দলে ডাকেন। কারণটা ছিল স্পষ্ট — মেসির বিদায়ের দিন সতীর্থদের একজন হয়ে পাশে থাকার সুযোগ।
ওতামেন্দি প্রথমার্ধে বেনিনের আক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এল সেই মুহূর্ত — মেসির নিখুঁত ক্রস। বক্সে একেবারে অরক্ষিত ওতামেন্দি পা বাড়িয়ে বল জালে পাঠালেন। শেষ ম্যাচে শেষ গোল। এই মুহূর্তের স্মৃতি তিনি সারা জীবন মনে রাখবেন। ওতামেন্দিকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পর লিসান্দ্রো মার্তিনেজ মাঠে নামলেন। ওতামেন্দি যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন মনুমেন্তালে করতালি উঠে গেল। তিনি সতীর্থদের সঙ্গে আলিঙ্গন এবং হাত মেলার মাধ্যমে বিদায় নেন। শেষবারের মতো তিনি অধিনায়ক মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওতামেন্দি বলেন, ‘এই ম্যাচটা ছিল বাড়তি পাওয়া। আমি বিশ্বকাপের আগের ম্যাচটিই আমার শেষ ভাবতাম। কিন্তু মেসি আমাকে এখানে আসতে বললেন। ওর বিদায়ের অংশ হতে, এই ঐতিহাসিক দিনটা উপভোগ করতে বললেন। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছর কাটিয়েছি। আর এই ১৭ বছর ওর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারাটা ছিল অসাধারণ।’
"আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচে শেষ গোলটা করা এমন একটা ব্যাপার, যেটা আমি সারা জীবন মনে রাখব।"
মেসির বিদায় নিয়ে ওতামেন্দির কণ্ঠেও ছিল আবেগ। তিনি বলেন, ‘ও একেবারে মাটির মানুষ। এই ম্যাচটা একদিন আসবেই। একই সঙ্গে দুঃখ আর আনন্দ হচ্ছিল। কারণ ওর বিদায়টা ঠিক যেভাবে প্রাপ্য ছিল, সেভাবেই হয়েছে।’ ওতামেন্দি মেসির সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন, ‘আমরা ওর খুব কাছের মানুষ ছিলাম। ও পৃথিবীর সবচেয়ে বিনয়ী মানুষগুলোর একজন। আর ফুটবল দিয়ে সে যা করেছে, সেটাও অবিশ্বাস্য। সে আর্জেন্টিনার পতাকাটা অনেক উঁচুতে রেখে গেছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মনুমেন্তাল, আর্জেন্টিনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিকোলাস ওতামেন্দি, লিওনেল মেসি, লিওনেল স্কালোনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ বছর (ওতামেন্দির বয়স), ১৭ বছর (আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার), ২১টি (বিশ্বকাপ ম্যাচ), ৩-০ (গোলের ব্যবধান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!