📌 মিউজিক থেরাপি ব্যবহার করে ম্যানচেস্টার সিটি দলের কোচ এনজো মারেসকার দলের অনুশীলন শুরু করছেন গান দিয়ে। গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ছন্দের গান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বাড়ায়। প্রিমিয়ার লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ার পেছনে এই কৌশলও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে
মিউজিক থেরাপি দিয়ে ফুটবল অনুশীলন করছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকার। লাউড স্পিকার থেকে ভেসে আসা কানফাটা ডান্স মিউজিক মাঠের মাঝখানে ফুটবলারদের গা গরম করছে। এই অনন্য অনুশীলন পদ্ধতির পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের গভীর যুক্তি। প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ার পেছনে এই কৌশলও অবদান রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকার (৪৬) অনুশীলন শুরু করছেন মিউজিক দিয়ে — গানই দলের সাফল্যের রহস্য বলে মনে করা হচ্ছে
- 📌 প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তো (২-০) ও লিগ কাপে নরউইচ সিটি (৫-০) গোলে হারিয়ে দিয়েছে সিটি
- 📌 জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ছন্দের গান খেলোয়াড়দের পাসিং, সময়জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়
- 📌 ডিফেন্ডার মাতেউস নুনেস বলেছেন, অনুশীলনের আগে সব ফুটবলারই এখন ডিজে হতে চায় — বিষয়টা দারুণ লেগেছে খেলোয়াড়দের
- 📌 মারেসকার খেলোয়াড়দের গান বাছাই করতে দিচ্ছেন, যা তাদের কোচের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে
📰 বিস্তারিত
ম্যানচেস্টার সিটির অনুশীলন মাঠে এখন একটি নতুন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। লাউড স্পিকার থেকে ভেসে আসা কানফাটা ডান্স মিউজিক ফুটবলারদের অনুশীলনকে আরো আনন্দময় করে তুলছে। এই কৌশলটি কেবল অনুশীলনকে আনন্দদায়ক করে তুলছে না, বরং বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ভিত্তিতে তৈরি। কোচ এনজো মারেসকার বলেছেন, ‘লেস্টার এবং চেলসিতে এটা করেছি, এখানে এসেও চালু করেছি। খেলোয়াড়রা মিউজিক থাকলে বেশি খুশি থাকে এবং ভালো কাজও করে। গানগুলো খেলোয়াড়রাই ঠিক করে। মূল উদ্দেশ্য তাদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।’
৪৬ বছর বয়সী মারেসকারের এই কৌশলটি ফুটবল বিশ্বে নতুন নয়। গত মৌসুমে বার্নলির কোচ স্কট পার্কারও অনুশীলনে মিউজিক ব্যবহার করেছিলেন। তবে বিষয়টি শুধু ‘ভাইব’ নয়, এর পেছনে বিজ্ঞানের যুক্তিও রয়েছে। জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ছন্দের গান ফুটবলারদের খেলার মান লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। তাদের পাসিং, সময়জ্ঞান এবং মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক সংগীত শুনলে বেড়ে যায়।
স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট মার্টিন পেরি মিউজিককে একটি কোডের মতো দেখছেন। তিনি বলেছেন, ‘মিউজিক একটা কোডের মতো কাজ করতে পারে। আলাদা পরিস্থিতির জন্য আলাদা গান। ম্যাচে পিছিয়ে পড়লে একধরনের, নিয়ন্ত্রণে থাকলে আরেক ধরনের, রক্ষণে থাকলে ভিন্ন কিছু। এতে খেলোয়াড়ের মেমোরিতে দ্রুত সাড়া জাগে, কথার চেয়ে দ্রুত।’
মারেসকারের এই কৌশলটি ফুটবলারদের মনোবিজ্ঞানকে বিবেচনা করে তৈরি। তিনি খেলোয়াড়দের গান বাছাই করতে দিচ্ছেন, যা তাদের কোচের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। মনোবিজ্ঞানী মার্ক সাগালের মতে, খেলোয়াড়দের গান বাছাই করতে দেওয়া মানে তাদের হাতে কিছুটা ক্ষমতা তুলে দেওয়া। তিনি বলেছেন, ‘দিনভর খেলোয়াড়েরা নির্দেশ মেনে চলে। গান বাছাইয়ের মতো ছোট একটা জায়গায় মতামত দেওয়ার সুযোগ তাদের কোচের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করে। এতে তারা মনে করে, সিদ্ধান্তের ভাগীদার তারাও।’
"লেস্টার আর চেলসিতে এটা করেছি, এখানে এসেও চালু করেছি। খেলোয়াড়রা মিউজিক থাকলে বেশি খুশি থাকে। ভালো কাজও করে। গানগুলো খেলোয়াড়রাই ঠিক করে। মূল উদ্দেশ্য তাদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ম্যানচেস্টার সিটি, ইংল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কোচ এনজো মারেসকার, ডিফেন্ডার মাতেউস নুনেস, স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট মার্টিন পেরি, মনোবিজ্ঞানী মার্ক সাগাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ বছর (মারেসকারের বয়স), ৪ ম্যাচ (শতভাগ জয়ের রেকর্ড), ২-০ (পোর্তো বিপক্ষে গোল), ৫-০ (নরউইচ সিটি বিপক্ষে গোল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!