📌 ফুটবলার জীবনে ১৩টি অস্ত্রোপচার ও বহু চোটের পরও এলেনা সাদিকু ফুটবলের সাথে আবার সংযোগ স্থাপন করেছেন। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা নারী কোচ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন এবং নারী কোচদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই সম্মান পাচ্ছেন
ফুটবল জীবনে অসংখ্য চোট ও অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে এলেনা সাদিকু নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার-কোচ বর্তমানে ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা নারী কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। তিনি এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত সর্বকনিষ্ঠ কোচ এবং একমাত্র নারী মনোনীত ব্যক্তি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩২ বছর বয়সে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত সর্বকনিষ্ঠ কোচ এবং একমাত্র নারী মনোনীত ব্যক্তি এলেনা সাদিকু।
- 📌 ফুটবলার জীবনে ১৩টি অস্ত্রোপচার এবং বাঁ হাঁটুতে ৩ বার এসিএল চোটের পরও তিনি ফুটবলের সাথে আবার সংযোগ স্থাপন করেছেন।
- 📌 ২০১৭ সালে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, “ফুটবল আমার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। আমাদের আবার দেখা হবে। সেটা কি খেলোয়াড়? কোচ নাকি ধারাভাষ্যকার?”
- 📌 শৈশব কসোভো-আলবেনিয়ান পরিবারের সদস্য হিসেবে জার্মানি ও সুইডেনে বেড়ে ওঠেন এবং ফুটবলকে জীবনের নিরাপত্তার আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করেন।
- 📌 ২৩ বছর বয়সে হ্যামারবির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু চোটের কারণে খেলোয়াড় জীবন থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন।
📰 বিস্তারিত
এলেনা সাদিকুর জীবনের গল্প শুরু হয় কসোভো যুদ্ধের সময়। তাঁর পরিবার যুদ্ধের আগুন থেকে বাঁচতে জার্মানি এবং পরে সুইডেনে আশ্রয় নেয়। সাত বছর বয়সে শৈশবের অনিশ্চিত দিনগুলোয় ফুটবল হয়ে উঠে তাঁর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু। বাড়ির বাগানে ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে খেলতে ফুটবল তার জীবনের আবেগ, ভালোবাসা এবং নিরাপত্তার আশ্রয় হয়ে ওঠে।
১৩ বছর বয়সে তিনি পেশাদার ফুটবলার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দুই বছর পর সুইডেনের মালমো একাডেমিতে যোগদান করেন। শুরুতে তিনি স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেন, কিন্তু কোচরা তাঁর মাঝমাঠের দক্ষতা দেখে মাঝমাঠে স্থানান্তরিত করেন। মাঠে নামলে তিনি শান্ত, ধীরস্থির এবং নেতৃত্বের গুণাবলী প্রদর্শন করতেন।
১৯ বছর বয়সে তাঁর প্রথম বড় চোট ঘটে। বাঁ হাঁটুর এসিএল ছিঁড়ে যায়। ফুটবলারদের কাছে এসিএল চোটের নামই দুঃস্বপ্ন। এলেনার বাঁ হাঁটুতে এসিএল ছিঁড়ে যায় তিনবার। খেলোয়াড় জীবনে মোট ১৩টি অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। ইএসপিএনকে তিনি বলেছিলেন, “আমার বাঁ হাঁটুতে ১৩টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনবার এসিএল ছোটের পরও আমি মাঠে ফিরতে পারিনি।”
২০১৪ সালে একই হাঁটুতে এসিএল, এমসিএল, এলসিএল এবং মিনিস্কাস একসঙ্গে ছিঁড়ে যায়। এমন চোটের পর সাধারণ ফুটবলারের মাঠে ফেরার কথাই ভাবা যেত না। কিন্তু এলেনা নিজের জীবনের নতুন পথ খুঁজে পান। তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেন এবং কোচিংয়ে প্রবেশ করেন।
"আমার মিনিস্কাস সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গেছে এবং এসিএলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোট পাওয়ার পরও কীভাবে আরো ২০ মিনিট খেলেছি, ভাবতেই পারছি না। তখন কি আর জানতাম, ওটাই আমার শেষ ম্যাচ হতে পারে। ফুটবল আমার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। আমাদের আবার দেখা হবে। সেটা কি খেলোয়াড়? কোচ নাকি ধারাভাষ্যকার? কে জানে! আমি হাল ছাড়ছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইডেন, জার্মানি, বেইজিং (চীন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এলেনা সাদিকু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর, ১৩টি অস্ত্রোপচার, ২০ মিনিট, ১৯ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!