📌 ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও ৯৪ বছর বয়সে চেন্নাইয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ৬০-এর অধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি থেকে ফ্যান্টাসি সিনেমা পর্যন্ত বিভিন্ন ধারায় সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছিলেন
ভারতের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উদ্ভাবনী পরিচালক সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও ৯৪ বছর বয়সে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বয়সজনিত সমস্যা ও দীর্ঘদিনের চিকিৎসার পর এই ঘটনা ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও
- 📌 ৬০-এর অধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, ফ্যান্টাসি, সামাজিক গল্প ও জীবনীভিত্তিক সিনেমা তৈরি করেছেন
- 📌 ১৯৮৭ সালের ‘পুষ্পক বিমানম’ ছবিতে তিনি সংলাপহীন চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন মাইলফলক স্থাপন করেন
- 📌 কমল হাসান ও রাজকুমার সহযোগিতায় তিনি তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে অসামান্য অবদান রেখেছেন
- 📌 দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নান্দী পুরস্কার, কর্ণাটক স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড দক্ষিণ পেয়েছেন
📰 বিস্তারিত
সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও ১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুদুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের শুরু হয় কিংবদন্তি পরিচালক কে ভি রেড্ডির সহকারী হিসেবে। পরবর্তীকালে তিনি নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা তৈরিতে অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ১৯৫৭ সালের ‘মায়াবাজার’ ও ১৯৬১ সালের ‘জগদেকা ভীরুনি কথা’ ছবির নির্মাণে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৭২ সালে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর সিঙ্গীতম নিজস্ব শৈলী গড়ে তোলেন। ‘ময়ুরি’ ছবির জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৭ সালের ‘থারাম মারিন্দি’ ও ১৯৮৫ সালের ‘ময়ুরি’ ছবির মাধ্যমে তিনি আরও প্রশংসা অর্জন করেন। ‘ময়ুরি’ ছবিতে অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রনের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বিপুল সাড়া জাগায় এবং একাধিক পুরস্কার অর্জন করে।
তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো ১৯৮৭ সালের ‘পুষ্পক বিমানম’। এই ছবিতে তিনি সংলাপহীন চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন রূপ প্রদর্শন করেন। কমল হাসান ও অমলা অভিনীত এই চলচ্চিত্রে শব্দ, অভিনয় ও শরীরিক ভাষার মাধ্যমে গল্প বলা হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা জনপ্রিয় বিনোদনমূলক ছবির সম্মান লাভ করে।
সিঙ্গীতমের চলচ্চিত্র জীবনে কমল হাসান একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেন। ‘সোম্মোকাদিদি সোকোকাদিদি’, ‘রাজা পারভাই’, ‘পুষ্পক বিমানম’, ‘অপুর্বা সগোথারাঙ্গাল’ ও ‘মাইকেল মাদানা কামা রাজন’ সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে তাঁদের জুটি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
তিনি শুধু তেলুগু নয়, কন্নড়, তামিল ও হিন্দি ভাষাতেও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। কন্নড়ের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজকুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিও ছিল সফল। ‘হালু জেনু’, ‘চালিসুভা মোদাগালু’, ‘এর্দু নক্ষত্রাগালু’ ও ‘ভাগ্যদা লক্ষ্মী বারাম্মা’ ছবিতে তাঁদের সহযোগিতা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
"সিঙ্গীতমের বড় অর্জন ছিল একই ধরনের সিনেমা বারবার না বানানো। প্রতিটি ছবিতে তিনি নতুন কিছু করার চেষ্টা করতেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চেন্নাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৪ বছর বয়স, ৬০-এর অধিক চলচ্চিত্র, ৬১তম চলচ্চিত্র ‘সিং গীতম’
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!