📅 ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

সিলেটের বাউল শিল্পী আনহার মিয়ার গান ‘বিলাই মেও মেও রে’ কলকাতার সিনেমায় ভাইরাল হবার গল্প

সিলেটের বাউল শিল্পী আনহার মিয়ার গান ‘বিলাই মেও মেও রে’ কলকাতার সিনেমায় ভাইরাল হবার গল্প

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 সিলেটের লতিবপুর গ্রামের বাউল শিল্পী মো. আনহার মিয়া (৫৭) তার নিজস্ব সুর ও কথা লেখা ‘বিলাই মেও মেও রে’ গানটি কলকাতার সিনেমা ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-এ ব্যবহার করা হলে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। গানটি মুক্তির ৭ দিনে ১ লাখ ২৫ হাজার ভিউ পেয়েছে

সিলেটের ওসমানীনগরের লতিবপুর গ্রামের বাউল শিল্পী মো. আনহার মিয়া (৫৭) তার নিজস্ব সুর ও কথা লেখা ‘বিলাই মেও মেও রে’ গানটি কলকাতার সিনেমা ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-এ ব্যবহার করা হলে সিনেমার প্রচারে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এই গানটি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির ৭ দিনে গানটি ইউটিউবে ১ লাখ ২৫ হাজার ভিউ পেয়েছে এবং দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 সিলেটের বাউল শিল্পী আনহার মিয়া (৫৭) তার নিজস্ব সুর ও কথা লেখা ‘বিলাই মেও মেও রে’ গানটি কলকাতার সিনেমা ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-এ ব্যবহার করা হয়েছে।
  • 📌 গানটি মুক্তির ৭ দিনে ইউটিউবে ১ লাখ ২৫ হাজার ভিউ পেয়েছে এবং দর্শকরা গানের কথা ও সুরের প্রশংসা করেছেন।
  • 📌 আনহার মিয়া বলেছেন, ‘আমার জীবনে এর চেয়ে বেশি আর পাওয়ার কী হতে পারে! শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাকে অনেক সম্মান করেছেন।’
  • 📌 গানটি তৈরির পেছনে রয়েছে আনহার মিয়ার জীবনের অভিমান ও শিষ্যদের প্রতি অনুভূতি।
  • 📌 গানটি প্রথমে বনী চক্রবর্তী কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়েছিল, পরে আনহার মিয়া নিজে গানটি গেয়েছেন।

📰 বিস্তারিত

সিলেটের ওসমানীনগরের লতিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আনহার মিয়া তার জীবনের প্রায় চার দশক গান, বাউলচর্চা এবং কবিরাজির সঙ্গে কাটিয়েছেন। তিনি নিজের মতো করে গান বাঁধেন এবং সুর করেন। তার লেখা ও সুর করা ‘বিলাই মেও মেও রে’ গানটি কলকাতার সিনেমা ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-এ ব্যবহৃত হলে সিনেমার প্রচারে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

৯ অক্টোবর প্রযোজনা সংস্থা উইন্ডোজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তির পরেই সাড়া ফেলে গানটি। গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত গানটির ভিউ ১ লাখ ২৫ হাজার। দর্শকরা মন্তব্যের ঘরে গানের কথা ও সুরের প্রশংসা করেছেন। একজন দর্শক লিখেছেন, ‘এবারের পূজায় ভাইরাল হবে গানটি।’ অনেকে গানটি রিলস ও শর্টসে ব্যবহার করেছেন।

আনহার মিয়া গানটির সাফল্যে খুব খুশি। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে এর চেয়ে বেশি আর পাওয়ার কী হতে পারে! এই তো অনন্য পাওয়া। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাকে অনেক সম্মান করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, ভালো সম্মানী দিয়েছেন। তাতেই আমি খুশি।’

গানটি তৈরির গল্প বেশ মজার। আনহার মিয়া বলেন, প্রায় তিন বছর আগে সিলেটের বিয়ানীবাজারের চরখাই ইউনিয়নে এক রোগী দেখতে গিয়ে তাঁর মাথায় আসে ‘বিলাই মেও মেও রে’ গানের কথা ও সুর। গানটির পেছনে রয়েছে জীবনের কিছু অভিমান। তিনি বলেন, ‘এটা প্রতীকী গান। আমারও কয়েকজন শিষ্য আছিল। তাদের আদর করে পাললাম, যত্ন করলাম। এখন আমারে চেনে না, অন্য জায়গায় থাকে। আমার কথা শোনে না, আমার সামনে আসে না। এই কারণে বললাম, আমার ঘরে থাকে বিলাই, আমার ঘরে খায়। আমারে না জিগাইয়া কার বাড়িতে যাও, বিলাই মেও মেও।’

গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো এই গানটি একসময় পৌঁছে যায় কলকাতার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে। আনহার মিয়া জানান, কলকাতায় যাওয়ার পর শুনি, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইউটিউব চ্যানেলে গানটি শুনে পছন্দ করেছেন। পরে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান প্রযোজক অনন্যা রুমার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে অন্য শিল্পীর কণ্ঠে গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আনহার মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হলে তাঁকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

আনহার মিয়া বলেন, ‘আমাকে না পেয়ে প্রথমে বনী চক্রবর্তী গানটি গেয়েছেন। পরে তাঁদের ডাকে অনন্যা রুমা আপাসহ ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় যাই। ২৫ সেপ্টেম্বর আমি গানটিতে কণ্ঠ দিই। এখন বনী চক্রবর্তীর গাওয়া গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমাকে বলেছে, ১৫ অক্টোবর আমারটা ছাড়া হবে। আজ তো ১৬ তারিখ, এখনো ছাড়েনি। আমারটা যদি না ছাড়ে, কোনো দুঃখ নেই। কারণ, আমাকে যে সম্মান ও সম্মানী দিয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।’

বনী চক্রবর্তীর প্রশংসাও করলেন আনহার মিয়া। তাঁর মতে, ‘রেকর্ডিংয়ের সময় বনী চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বললেন, ভাই, আপনার দারুণ কণ্ঠ। আমি আপনাকে ফলো করে গেয়েছি। এরপর আমাকে ওনার রেকর্ডটি শোনান। কোনো ভুল আছে কি না, দেখতে বলেন।’

ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি টান আনহার মিয়ার। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি মো. জমির মিয়া নামের এক গুরুর কাছে দীক্ষা নিতে বাড়ি ছেড়েছিলেন। পড়াশোনা করেছিলেন ক্লাস টু পর্যন্ত। গুরুর কাছ থেকেই শিখেছেন গান ও সুরের নানা ধরন। এখনো সুযোগ পেলেই গান করেন। পাশাপাশি বাংলা ঢোল স্টুডিওতে ঢোল বাজান। সিলেট বেতারেও পাঁচ বছর ধরে ঢোল বাজাচ্ছেন।

আনহার মিয়া বলেন, ‘আমি অল্প শিক্ষিত মানুষ। আমার লেখা গানের সংখ্যা খুব কম। তিন–চারটা গান হবে আমার লেখা।’ তিনি বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানদের খুশি দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর বড় ছেলে একটি ল্যাবে প্যাথলজিস্ট হিসেবে কাজ করেন। মেয়েদের কেউ বিএ পড়ছেন, কেউ উচ্চমাধ্যমিকে, অন্যরা স্কুলে।

আনহার মিয়া ভবিষ্যতেও গান করে যেতে চান। তিনি বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি, ক্ষমতা আছে, তত দিন চালিয়ে যাব। যে সময় আর পারব না, তখন কবিরাজ হিসেবে বা বাউল হিসেবে—যে যেভাবে চায়, সেভাবেই মনে রাখুক। এ নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

"আমার জীবনে এর চেয়ে বেশি আর পাওয়ার কী হতে পারে! এই তো অনন্য পাওয়া। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাকে অনেক সম্মান করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, ভালো সম্মানী দিয়েছেন। তাতেই আমি খুশি।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: সিলেটের ওসমানীনগর (লতিবপুর গ্রাম), কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ)
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আনহার মিয়া (৫৭), নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বনী চক্রবর্তী, অনন্যা রুমা
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৭ বছর (আনহার মিয়ার বয়স), ১৫ অক্টোবর (সিনেমা মুক্তি), ৯ অক্টোবর (গান মুক্তি), ১ লাখ ২৫ হাজার (ভিউ), ২৪ সেপ্টেম্বর (কলকাতায় যাওয়া), ২৫ সেপ্টেম্বর (গান রেকর্ড)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖