📌 বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা শাবানা (আফরোজা সুলতানা রত্না) অভিনয় জীবন থেকে সরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং মা হিসেবে দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশের জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি ২৯৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং ১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শাবানা (আফরোজা সুলতানা রত্না) অভিনয় জীবন থেকে সরে আসার পেছনে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার তাগিদ। ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে এবং দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে দেন। শাবানা বলেন, ‘লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম। কিন্তু মা হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল সন্তানদের ভালোভাবে গড়ে তোলা।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মাত্র ৮ বছর বয়সে** চলচ্চিত্রে অভিষেক করে ৩৫ বছর ধরে অভিনয় জীবন গড়েন শাবানা (আফরোজা সুলতানা রত্না)।
- 📌 **২৯৯টি চলচ্চিত্রে** অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পান।
- 📌 **১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার** এবং আজীবন সম্মাননা লাভ করেন অভিনয় জীবনে।
- 📌 **সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত** করতে এবং মা হিসেবে দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশের জন্য অভিনয় ছেড়ে দেন।
- 📌 **বাবা ফয়েজ চৌধুরী** পরিচালিত ‘মুক্তি’, ‘মালকাবানু’, ‘বিজয়িনী সোনাভান’ সহ ৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
- 📌 **আলমগীরের বিপরীতে ১৩০টি চলচ্চিত্রে** অভিনয় করেছেন শাবানা, যা সর্বাধিক।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান** সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য এবং তাদের বেড়ে ওঠার সময় থেকে দূরে থাকতে চাননি।
📰 বিস্তারিত
শাবানার চলচ্চিত্র জীবনের শুরু হয়েছিল মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় তাঁর বাবা ফয়েজ চৌধুরী এহতেশামকে বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটাকে আমি একটি ছবিতে নিতে চাই’। কিন্তু বাবা প্রথমে অস্বীকার করেন, ‘রত্না কীভাবে অভিনয় করবে! সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না’। এহতেশামের জোরালো আগ্রহে বাবা রাজি হন। শাবানার প্রথম দৃশ্যে তিনি বলেছিলেন, ‘ভেয়ে, ভেয়ে, আপুর বিয়ে’। নায়ক রহমান রওশান আরা তাঁকে জড়িয়ে বলেছিলেন, ‘তাই নাকি রে!’
শাবানার বাবা ফয়েজ চৌধুরী চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের উৎসাহে পরিচালনা শুরু করেন। শাবানাও বাবার পরিচালিত ‘মুক্তি’ (১৯৬৯), ‘মালকাবানু’ (১৯৭৪), ‘বিজয়িনী সোনাভান’ (১৯৭৯), ‘আলতাবানু’ (১৯৮২) ও ‘রাজার মেয়ে বেদিনী’ (১৯৯১) সহ ৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ‘মালকাবানু’ ছবিটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়। শাবানার বাবা তাঁকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চাননি, কিন্তু পরে তাঁর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন।
শাবানার অভিনয় জীবনে সর্বাধিক সফলতা আসে আলমগীরের বিপরীতে। তাঁদের জুটি হয়ে ১৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া রাজ্জাকের বিপরীতেও তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি উর্দু চলচ্চিত্র ‘চকোরী’তে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নায়িকা থেকে ভাবি, মা—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।
শাবানা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পেশা ও চেনা জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পেছনে ছিল সন্তানদের নিয়ে আমার উদ্বেগ। বড় মেয়ে সুমী এ লেভেল শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ছোট মেয়ে ঊর্মি ও ছেলে নাহিনও সেখানে চলে যান। আমি তাদের বেড়ে ওঠার সময় থেকে দূরে থাকতে চাননি। মা হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল তাদের ভালোভাবে গড়ে তোলা। তাই অভিনয় ছেড়ে সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হলাম।’
"লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম। হঠাৎ মনে হলো, সন্তানদেরও তো সময় দেওয়া দরকার। আমার বড় মেয়ে সুমী তখন এ লেভেল শেষ করল। উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো। কিছুদিন পর ছোট মেয়ে ঊর্মি আর ছেলে নাহিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেল। ওদের সবার বয়সই–বা তখন আর কত। বাচ্চারা আমাকে খুব মিস করছিল। দেশে যখন ছিল, তখন তো আমার চোখের সামনেই ছিল। কাজের ফাঁকে দেখতাম। তখন আমিও ভাবলাম, মা হিসেবে আমার তো কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। সন্তানদের যদি ঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমার এই অভিনয়জীবন দিয়ে কী হবে! তাই কষ্ট হলেও সিনেমা ছেড়ে সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম (বাংলাদেশ), যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: শাবানা (আফরোজা সুলতানা রত্না), ফয়েজ চৌধুরী, এহতেশাম, রহমান রওশান আরা, আলমগীর, রাজ্জাক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯৯টি চলচ্চিত্র, ১১টি পুরস্কার, ১৩০টি চলচ্চিত্র (আলমগীরের বিপরীতে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!